জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলা এবং ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত পরবর্তী ১০ বছরে বাংলাদেশের মোট ১১৬.১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন প্রয়োজন। এর মধ্যে অন্তত ৯০.২৩ বিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক বৈশ্বিক তহবিল ও সহায়তা থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ৩৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জনকেন্দ্রিক জলবায়ু নীতি: কপ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থান’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এই সুনির্দিষ্ট উপাত্ত তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, জলবায়ু অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর ঋণের নতুন বোঝা না চাপিয়ে উন্নত বিশ্বকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু কূটনীতিকে বেগবান করতে পররাষ্ট্র ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যৌথ সমন্বয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিবেশবান্ধব দেশীয় পাটপণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে বিশেষ ‘জুট প্যাভিলিয়ন’ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সাথে তরুণ প্রজন্ম, নারী ও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়।
জাতীয় জলবায়ু অবস্থানপত্রে জলবায়ু অর্থায়নকে ঋণমুক্ত রাখা, ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তর, বায়ুদূষণ ও শিল্পকারখানার নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের মতো ৬টি মৌলিক নীতিগত সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। সংলাপে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ফারাহ কবির, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শৌকত আলীসহ বিশিষ্ট পরিবেশবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। বক্তারা স্পষ্ট জানান, হালনাগাদ জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা (এনডিসি ৩.০) অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০.৩১ শতাংশ কমানোর রূপরেখা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সদিচ্ছা ও প্রত্যক্ষ অর্থায়ন অত্যন্ত জরুরি।






















