মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটির সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবর্ষণে অন্তত ৫৮ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ২০০ জনেরও বেশি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইয়েমেনের দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় জ্বালানি সমৃদ্ধ প্রদেশ শাবওয়ার গভর্নর আওয়াদ আল-ওয়াজির এই বর্বরোচিত হামলা ও বিপুল হতাহতের বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
রয়টার্স কর্তৃক প্রাপ্ত শাবওয়া প্রদেশের ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থলে ক্ষতবিক্ষত ও রক্তে ভেজা বহু মরদেহ এবং শত শত আহত মানুষ মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। গভর্নর ওয়াজির আরও জানান, শাবওয়ার কৌশলগত ‘আল-আলম’ সামরিক ক্যাম্পে হুতিদের চালানো তিনটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবর্ষণের পর থেকে অদ্যাবধি অন্তত ১৪ জন সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালির সীমান্তবর্তী এলাকার দিকে হুতি বিদ্রোহীরা নতুন করে অগ্রসর হওয়ার পর থেকেই সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হুতিরা এই ৩টি ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে। উল্লেখ্য, এই শাবওয়া প্রদেশটি ইয়েমেনের সর্ববৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্লান্ট ‘বালহাফ এলএনজি’-র জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি শাবওয়ার প্রশিক্ষণ ক্যাম্পটিতে সফল হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেন, উক্ত ক্যাম্পটি সরাসরি সৌদি সামরিক বাহিনী পরিচালনা ও তদারকি করছিল।
এদিকে, হুতি বিদ্রোহীদের এই ধারাবাহিক রকেট ও ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের বার্ষিক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর দেশটির রাজধানী রিয়াদে বহুল প্রতীক্ষিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় তা পিছিয়ে আগামী বছরে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে রিয়াদে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ নিজ বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হুতি বিদ্রোহীরা বিভিন্ন ছোট নৌকা ও ট্রলারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় গোপন অস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম চোরাচালান করছে অভিযোগে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইয়েমেনে সক্রিয় সৌদি নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোট। তারা দাবি করেছে যে, সম্প্রতি ইয়েমেন উপকূলের কাছে চোরাচালানকৃত অত্যাধুনিক অস্ত্রের একটি বড় চালান বিজিবি ও সামরিক বাহিনীর যৌথ অভিযানে সফলভাবে জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।























