২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, যেভাবে অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার ফল শুভ হয়নি, তেমনি ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার পরিণতিও কখনো ভালো হবে না। বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার না চালিয়ে বিরোধী দলকে সংসদে এসে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বিতর্ক করার এবং জনগণের কল্যাণে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে রংপুর ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন ও সুধী সমাজের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। একইভাবে বিগত দিনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও সব মত ও পথের মানুষ অংশ নিয়ে স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছিল। এ দেশে বিগত হাজার বছরের মতো আগামী দিনগুলোতেও সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে ও নিরাপদে বসবাস করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বর্তমান সরকার কেবল যারা ভোট দিয়েছেন তাদেরই নয়, বরং যারা ভোট দেননি তাদের সবার অধিকার রক্ষায় সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
রংপুর অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি এলাকার সুষম ও সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে গত দুই সপ্তাহ আগে একনেক সভায় রংপুর মহানগরের সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে জেলা পরিষদকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ জনপদের রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা সহজে ভোগ করতে পারে।
এছাড়া সনাতনী সম্প্রদায়ের অসচ্ছল ও দূরদূরান্ত থেকে আগত মানুষদের বিনা মূল্যে থাকার সুবিধার্থে রংপুর ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পেছনে নির্মাণাধীন হোস্টেলটির বাকি কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-কর্তাব্যক্তিদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে তিনি মন্দিরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ১০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদানের চেক মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় রংপুর জেলা মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই দাস, আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ট্রাস্টি স্বপন ভট্টাচার্য এবং মন্দির কমিটির সভাপতি পার্থ বোস প্রমুখ। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।






















