বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের সাথে পেশাগত যোগাযোগ ও কাজ করার কথিত অপরাধে এবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা টাইগার শ্রফ। মুম্বাইয়ের অভিজাত জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলার উদ্দেশ্যেই সশস্ত্র গুলি চালানো হয়। এতে অল্পের জন্য বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন অভিনেতার নিজস্ব গাড়িচালক। ইতিমধ্যে চাঞ্চল্যকর এই হামলার ঘটনায় তিন দুষ্কৃতকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে মুম্বাই পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত তিন ব্যক্তির মধ্যে দু’জন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের এবং অপর একজন মহারাষ্ট্রের স্থানীয় বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে আটক এই তিনজনের সাথেই ভারতের কুখ্যাত অপরাধী চক্র লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকার জোরালো তথ্য মিলেছে।
এদিকে ঘটনার পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওবার্তায় অনিল পণ্ডিত নামক এক ব্যক্তি এই হামলার দায় পুরোপুরি স্বীকার করেছেন। ভিডিওতে ওই ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য বলে দাবি করেন।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওবার্তায় অনিল পণ্ডিতকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে শোনা যায় যে, টাইগার শ্রফ তাঁদের সংগঠনের কোনো নির্দেশ বা নিষেধাজ্ঞা মান্য করছিলেন না এবং বলিউড ভাইজান সালমান খানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন—এ কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে।
ভিডিওর মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতের অন্যান্য কলাকুশলীদের উদ্দেশ্যে আরও মারাত্মক হুমকি দিয়ে বলা হয়, ইন্ডাস্ট্রির কোনো অভিনেতা বা নির্মাতা যদি তাঁদের গ্যাংয়ের সাথে আপস বা সমঝোতা না করে কিংবা সালমান খানের সাথে একত্রে কাজ চালিয়ে যান, তবে তাঁকেও সুনির্দিষ্টভাবে হত্যা করা হবে। এছাড়া বলিউড তারকা সালমান খান যদি অবিলম্বে লরেন্স বিষ্ণোই ও গোটা বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করেন, তবে তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যকেই নিরাপদে বাঁচতে দেওয়া হবে না বলে খোলাখুলি হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি হিংস্রতার মাত্রা বাড়িয়ে সালমানের পোষ্য কুকুরদের পর্যন্ত রেহাই দেওয়া হবে না বলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে গুজরাটের একটি সুরক্ষিত কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এর আগেও বহুবার বলীউড অভিনেতা সালমান খানকে একাধিক মাধ্যমে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছে তাঁর এই সশস্ত্র সিন্ডিকেট। মূলত ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের একটি মামলায় সালমানের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মূলত বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে চলেছে। ইতিপূর্বে ২০২৩ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল যে, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের টার্গেট করা হিটলিস্টে থাকা শীর্ষ ১০ জন ব্যক্তির তালিকার একেবারে প্রথম অবস্থানেই রয়েছে সালমান খানের নাম।
চলচ্চিত্র অঙ্গন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে এই প্রাণঘাতী হামলা এমন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে সংঘটিত হলো, যখন সালমান খানের সাথে ব্যক্তিগত বা পেশাগত সুসম্পর্কের জেরে এর আগেও রক্তক্ষয়ী সহিংসতার নজির রয়েছে। এর আগে গত ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় গুলিতে নিহত হয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রী ও এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকি। সে সময়ও নিহত বাবা সিদ্দিকি অভিনেতা সালমান খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ট বন্ধু হওয়ার কারণেই তাঁকে குறி করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রকাশ্যে দাবি করেছিল লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিনেতা টাইগার শ্রফ ও সালমান খান এখন পর্যন্ত বড়পর্দার কোনো একক চলচ্চিত্রে যৌথভাবে অভিনয় করেননি। তবে বলিউডের গণ্ডিতে তাঁদের দুজনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও যোগাযোগ সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে, টাইগারের বলিউডে রুপালি পর্দায় অভিষেক হওয়ার পথ সুগম করতে স্বয়ং সালমান খান এগিয়ে এসে প্রখ্যাত প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালাকে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাছাড়া টাইগার শ্রফের নিজ পিতা ও প্রবীণ বলিউড অভিনেতা জ্যাকি শ্রফও ভাইজান সালমানের সাথে অতীতে একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অত্যন্ত সফলভাবে অভিনয় করেছেন।
























