Dhaka ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ফ্রান্সে সংস্কারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস, একদিনে গ্রেপ্তার ২ হাজার ৪০০

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:০৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

স্কুলশিক্ষা খাতের বিতর্কিত সংস্কার বাতিল এবং আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ফরাসি ভূখণ্ড জুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের অহিংস আন্দোলন পরবর্তীতে রূপ নেয় ব্যাপক সহিংস সংঘাত, ভাঙচুর ও নজিরবিহীন লুটপাটে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) এই সহিংসতায় সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিগত এক মাসে দেশটিতে অন্তত এক হাজারের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববারও ফ্রান্সের ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল চরম সহিংস রূপ ধারণ করে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আন্দোলনের নামে এমন ধ্বংসাত্মক সহিংসতার কোনো প্রকার আইনি বা নৈতিক যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।

ফরাসি পুলিশের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজপথে অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ছড়ানো, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণ, সরকারি ও জাতীয় সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং সর্বসাধারণের নিরাপত্তায় মারাত্মক হুমকি সৃষ্টির অপরাধে সারা দেশে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ২ হাজার ৩৯৭ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের হামলায় আহত ৯৯৭ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীর মধ্যে অন্তত ৭ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ আন্দোলন পুরো ফরাসি রাষ্ট্রযন্ত্রে তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বুলেটিনে ২,৩৯৭ জন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি সরকারিভাবে নিশ্চিত করেছে।

ফ্রান্সের খুচরা ও বাণিজ্য খাতের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ সংগঠন ‘রিটেইল অ্যান্ড ট্রেড ফেডারেশন’-এর প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দ্রে বোম্পার স্থানীয় এলসিআই টেলিভিশনকে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগই সরাসরি তাণ্ডব ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ‘কয়েক শত মিলিয়ন ইউরো’ ছাড়িয়ে যেতে পারে; তবে চূড়ান্ত হিসাব পাওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।

সহিংসতায় ম্যাক্রোঁর কড়া হুঁশিয়ারি:

রোববার ফরাসি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক জরুরি ভাষণে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, “আজ আমরা পুরো জাতি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত। আন্দোলনের নামে সারা দেশে যে অভূতপূর্ব ও অনিয়ন্ত্রিত সহিংস তাণ্ডব চালানো হচ্ছে, এর পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। যারা সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের দোহাই দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের সবাইকে নিজ নিজ অপরাধের জন্য উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে।”

সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “দাঙ্গাবাজদের দমনে সরকার সম্পূর্ণ আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট, সরকারি স্থাপনা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট সিটি মেয়রদের সাথে সরাসরি সমন্বয় করে কঠোর সিদ্ধান্ত নিবেন। ফরাসি শহরগুলোর রাজপথ এভাবে তছনছ হতে দেখা অত্যন্ত অসহনীয় ও অনভিপ্রেত।”

একই সাথে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি তহবিল থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্রান্সে সংস্কারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস, একদিনে গ্রেপ্তার ২ হাজার ৪০০

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:০৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

স্কুলশিক্ষা খাতের বিতর্কিত সংস্কার বাতিল এবং আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ফরাসি ভূখণ্ড জুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের অহিংস আন্দোলন পরবর্তীতে রূপ নেয় ব্যাপক সহিংস সংঘাত, ভাঙচুর ও নজিরবিহীন লুটপাটে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) এই সহিংসতায় সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিগত এক মাসে দেশটিতে অন্তত এক হাজারের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববারও ফ্রান্সের ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল চরম সহিংস রূপ ধারণ করে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আন্দোলনের নামে এমন ধ্বংসাত্মক সহিংসতার কোনো প্রকার আইনি বা নৈতিক যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।

ফরাসি পুলিশের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজপথে অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ছড়ানো, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণ, সরকারি ও জাতীয় সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং সর্বসাধারণের নিরাপত্তায় মারাত্মক হুমকি সৃষ্টির অপরাধে সারা দেশে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ২ হাজার ৩৯৭ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের হামলায় আহত ৯৯৭ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীর মধ্যে অন্তত ৭ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ আন্দোলন পুরো ফরাসি রাষ্ট্রযন্ত্রে তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বুলেটিনে ২,৩৯৭ জন বিক্ষোভকারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি সরকারিভাবে নিশ্চিত করেছে।

ফ্রান্সের খুচরা ও বাণিজ্য খাতের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ সংগঠন ‘রিটেইল অ্যান্ড ট্রেড ফেডারেশন’-এর প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দ্রে বোম্পার স্থানীয় এলসিআই টেলিভিশনকে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগই সরাসরি তাণ্ডব ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ‘কয়েক শত মিলিয়ন ইউরো’ ছাড়িয়ে যেতে পারে; তবে চূড়ান্ত হিসাব পাওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।

সহিংসতায় ম্যাক্রোঁর কড়া হুঁশিয়ারি:

রোববার ফরাসি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক জরুরি ভাষণে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, “আজ আমরা পুরো জাতি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত। আন্দোলনের নামে সারা দেশে যে অভূতপূর্ব ও অনিয়ন্ত্রিত সহিংস তাণ্ডব চালানো হচ্ছে, এর পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। যারা সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের দোহাই দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের সবাইকে নিজ নিজ অপরাধের জন্য উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে।”

সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “দাঙ্গাবাজদের দমনে সরকার সম্পূর্ণ আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট, সরকারি স্থাপনা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট সিটি মেয়রদের সাথে সরাসরি সমন্বয় করে কঠোর সিদ্ধান্ত নিবেন। ফরাসি শহরগুলোর রাজপথ এভাবে তছনছ হতে দেখা অত্যন্ত অসহনীয় ও অনভিপ্রেত।”

একই সাথে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি তহবিল থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।