গাজার ভয়াবহতা আমি নিজের চোখে দেখেছি। মুহূর্তের মধ্যে পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে যাওয়া, বাড়িঘরে মানুষ থাকা অবস্থায় বোমা হামলা এবং পরিবারগুলোর অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য আমার চোখের সামনেই ঘটেছে। দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতাও হয়েছে দুবার। তাই গাজায় কী ঘটেছে, তা জানতে নতুন করে কোনো চলচ্চিত্র দেখার প্রয়োজন ছিল না আমার।
তার পরও সম্প্রতি ‘নাজা’ নামের চলচ্চিত্রটি দেখেছি। গাজার ঘটনা জানার জন্য নয়, বরং যারা এসব ঘটিয়েছে, তারা কীভাবে নিজেদের কাজকে ন্যায্য বলে মনে করে—সেটি বোঝার জন্যই ছবিটি দেখা। হলোকাস্টের স্মৃতি বহনকারী একটি জনগোষ্ঠীর মানুষ কীভাবে অন্য একটি জনগোষ্ঠীর ওপর এমন ভয়াবহ নৃশংসতাকে সমর্থন করতে পারেন? যারা নিজেরাই একসময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারা কীভাবে অন্যের ওপর নিপীড়ন চালানোর পক্ষে দাঁড়ান? এসব কর্মের জন্য কি তাদের মনে সামান্যতম অনুশোচনাও জাগে না?
বিশ্ব দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের ভুক্তভোগী ও সাক্ষ্য শুনে আসছে। যুদ্ধের বড় একটি সময়জুড়ে আমিও মানুষকে জানিয়েছি, গাজায় নিজের চোখে কী দেখে এসেছি। তবে এবার চলচ্চিত্রটিতে এমন কিছু মানুষের কথা শোনা গেছে, যারা সরাসরি সামরিক ব্যবস্থার অংশ ছিলেন। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডকে কীভাবে দেখেছেন, সে বিষয়ে কথা বলেছেন। ফিলিস্তিনিদের তুলনায় এতে ইসরায়েলিদের বক্তব্য বেশি থাকা নিয়ে যে সমালোচনা হয়, তার সঙ্গে আমি একমত নই। আমি জানি সেখানে কী ঘটেছে; তবে অপরাধীরা তাদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে কীভাবে যুক্তি দাঁড় করায়, তা আমি বুঝতে চেয়েছি। অপরাধীর সাক্ষ্য কখনো ভুক্তভোগীর চেয়ে বড় হতে পারে না, তবে তা এমন কিছু সত্য সামনে আনতে পারে যা আমাদের পক্ষে দেখা সম্ভব ছিল না।























