ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুতে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা এবং কূটনৈতিক জোনের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তদারকি সংস্থার এক প্রতিবেদনে প্রকাশ্যে এসেছে। পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে মার্কিন প্রাণহানি, সরকারি অর্থের রেকর্ড ব্যয় এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই সামরিক অভিযানের ফলে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। বিশেষ করে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রতিরক্ষামূলক ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে আনতে মার্কিন শিল্প খাতের অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে। এর আগে গোলাবারুদের ঘাটতির বিষয়টি পেন্টাগন বিভিন্ন সময় অস্বীকার করলেও বর্তমান প্রতিবেদনে এই সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুতগতিতে অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদন করছে।
তদারকি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, সংঘাতের শুরুর মাসগুলোতে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির শত শত ভবন ও কৌশলগত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনস্থ মার্কিন নৌবাহিনীর লজিস্টিকস ঘাঁটিটি ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম সচল রাখতে সুদূর ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপসহ বিভিন্ন বিকল্প কেন্দ্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হচ্ছে।























