সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী অতিরিক্ত মাত্রায় ফেসবুক-নির্ভর হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে একে একটি রাজনৈতিক দলের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে অভিহিত করেন।
রায়হান উদ্দীনের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টদের মনস্তত্ত্ব ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে জামায়াতের পলিসি ও কৌশল নির্ধারিত হচ্ছে, যা দলের দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতির জন্য শুভকর নয়। ফেসবুকে তাৎক্ষণিক প্রশংসা বা সমালোচনার মুখে কোনো সুদূরপ্রসারী চিন্তা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই প্রবণতা দলকে প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলছে। সাম্প্রতিক একটি লংমার্চের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, আগের লংমার্চে তরুণ নেতাদের ছাদখোলা গাড়িতে না রাখার কারণে ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে প্রায় সবাইকেই সেখানে রাখা হয়, যার ফলে পুরো আয়োজনটি ছাত্রশিবিরের মতো মনে হয়েছে। তরুণ নেতারা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং বুঝলেও এভাবে হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলা বা ‘কেওস’ তৈরি করবে।
একটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সুস্পষ্ট পলিসি, রিসার্চ, স্ট্র্যাটেজি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং থাকা আবশ্যক বলে মনে করেন এই ডাকসু নেতা। তিনি সতর্ক করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে জানা বা গ্রাফিকস ডিজাইন করতে পারাই প্রকৃত পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন নয়। দল যদি সোশ্যাল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ না করে বরং সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে, তবে একসময় অ্যাক্টিভিস্টদের প্রত্যাশা অনুযায়ীই দলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই স্রোতের তালে নাচে অভ্যস্ত না হয়ে নিজস্ব শক্তিশালী রাজনৈতিক কৌশল ও নিজস্ব ছক তৈরি করার তাগিদ দেন তিনি।






















