ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি শান্তিময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্কে আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি উপস্থিত সর্বস্তরের জনগণের সামনে নিজের এই আশাবাদের কথা তুলে ধরেন।
দেশজুড়ে আয়োজিত মণ্ডপগুলোর সামগ্রিক সুরক্ষার চিত্র তুলে ধরে পুলিশ প্রধান জানান, দেশের প্রতিটি প্রান্তে বিস্তৃত ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর তিন লাখেরও বেশি সদস্য মাঠে থেকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরবচ্ছিন্ন তৎপরতা সত্ত্বেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দুর্গোৎসব ‘নিয়ন্ত্রিতভাবে’ পালন ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিতর্কিত বক্তব্য উপস্থাপন করছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, “এমন মন্তব্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। মূলত যারা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ও অশুভ স্বার্থ হাসিল করতে চায়, তারাই এসব অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য ছড়াচ্ছে।”
দেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা প্রকাশ করে আইজিপি উল্লেখ করেন, দেশের ভেতর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রদানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরলস ও প্রজ্ঞাপূর্ণভাবে কাজ করে চলেছেন। তাঁর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনাকে সামনে রেখে পুলিশ বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবায়নে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
এর আগে একই দিন সন্ধ্যায় বোধন, দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের ভাবগম্ভীর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল উৎসবের শুভ সূচনা ঘটে। আয়োজিত উৎসবটির আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
উক্ত দর্শনীয় ও ধর্মীয় আয়োজনে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সভাপতি অলক সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক বিনয় রায়।
উল্লেখ্য, দর্শনার্থী ও পূজার্থীদের কাছে এবারের বনানী মণ্ডপের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক ‘জলজ’ থিম।






















