Dhaka ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাড়ে তিনশো শিশু নিহত

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বহুল আলোচিত যুদ্ধবিরতি চালু হওয়ার পরও দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দফায় দফায় হামলায় ৩৪০টিরও বেশি নিষ্পাপ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে ইসরায়েলি গোলার আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে আরও বহু সংখ্যক শিশু। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শিশু জরুরি তহবিল (ইউনিসেফ)-এর একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘের প্রশাসনিক কার্যালয়ে আয়োজিত একটি সংবাদ সন্মেলনে ইউনিসেফের অন্যতম মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস জানান, গাজায় কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকার পরও সাধারণ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা থামায়নি ইসরায়েল। তাছাড়া দীর্ঘদিনের কঠোর সামরিক অবরোধ বজায় রাখার কারণে গাজা উপত্যকার অবরুদ্ধ অধিবাসীদের মানবীয় দুর্দশা ও কষ্ট বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে বলেন, শুধুমাত্র বিদায়ী দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ছোঁড়া বোমায় ৫টি বালক ও ২টি বালিকা শিশু প্রাণ হারিয়েছে। উপরন্তু অন্তত ৩৩ জন ফিলিস্তিনি শিশু দেহের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ ফিলিস্তিনি শিশু গৃহহীন বা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের সিংহভাগই অস্থায়ী প্লাস্টিকের তাঁবুতে কিংবা যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত অট্টালিকায় কোনোক্রমে দিনাতিপাত করছে। জীবনের নিরাপত্তা, মৌলিক জরুরি পরিষেবা এবং সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশের চরম ঘাটতির কারণে এসব কোমলমতি শিশুকে প্রতিনিয়ত বর্ণনাতীত ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ প্রতিনিধি রিকার্ডো পিরেস গভীর সংশয় প্রকাশ করে সতর্ক করেন যে, সামনে তীব্র শীতের মাসগুলো আসার সাথে সাথে অসহায় শিশুদের অবর্ণনীয় কষ্ট আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। এর ফলশ্রুতিতে টানা চতুর্থবারের মতো চরম অমানবিক ও বসবাসের অযোগ্য অবস্থায় ফিলিস্তিনি শিশুদের দিন কাটাতে হতে পারে।

সামনে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির প্রাক্কালে অস্থায়ী তাঁবু এবং ফাটল ধরা ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে অবস্থান নেওয়া অসহায় শিশুদের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়ার প্রবল আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি বহাল থাকার দাবি সত্ত্বেও ক্রমাগত শিশুদের অকাল প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব বরণ এবং বিশাল জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ প্রক্রিয়া পুরো গাজাজুড়ে চলতে থাকা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চরম বাস্তবতাই তুলে ধরে।

বিদ্যমান এই করুণ পরিস্থিতিতে গাজার ছোট ছোট শিশুদের জীবনের পূর্ণ সুরক্ষাদান, আঘাতপ্রাপ্ত শিশুদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ বাসস্থানের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাড়ে তিনশো শিশু নিহত

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বহুল আলোচিত যুদ্ধবিরতি চালু হওয়ার পরও দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দফায় দফায় হামলায় ৩৪০টিরও বেশি নিষ্পাপ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে ইসরায়েলি গোলার আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে আরও বহু সংখ্যক শিশু। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শিশু জরুরি তহবিল (ইউনিসেফ)-এর একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘের প্রশাসনিক কার্যালয়ে আয়োজিত একটি সংবাদ সন্মেলনে ইউনিসেফের অন্যতম মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস জানান, গাজায় কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকার পরও সাধারণ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা থামায়নি ইসরায়েল। তাছাড়া দীর্ঘদিনের কঠোর সামরিক অবরোধ বজায় রাখার কারণে গাজা উপত্যকার অবরুদ্ধ অধিবাসীদের মানবীয় দুর্দশা ও কষ্ট বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে বলেন, শুধুমাত্র বিদায়ী দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ছোঁড়া বোমায় ৫টি বালক ও ২টি বালিকা শিশু প্রাণ হারিয়েছে। উপরন্তু অন্তত ৩৩ জন ফিলিস্তিনি শিশু দেহের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ ফিলিস্তিনি শিশু গৃহহীন বা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের সিংহভাগই অস্থায়ী প্লাস্টিকের তাঁবুতে কিংবা যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত অট্টালিকায় কোনোক্রমে দিনাতিপাত করছে। জীবনের নিরাপত্তা, মৌলিক জরুরি পরিষেবা এবং সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশের চরম ঘাটতির কারণে এসব কোমলমতি শিশুকে প্রতিনিয়ত বর্ণনাতীত ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ প্রতিনিধি রিকার্ডো পিরেস গভীর সংশয় প্রকাশ করে সতর্ক করেন যে, সামনে তীব্র শীতের মাসগুলো আসার সাথে সাথে অসহায় শিশুদের অবর্ণনীয় কষ্ট আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। এর ফলশ্রুতিতে টানা চতুর্থবারের মতো চরম অমানবিক ও বসবাসের অযোগ্য অবস্থায় ফিলিস্তিনি শিশুদের দিন কাটাতে হতে পারে।

সামনে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির প্রাক্কালে অস্থায়ী তাঁবু এবং ফাটল ধরা ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে অবস্থান নেওয়া অসহায় শিশুদের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়ার প্রবল আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি বহাল থাকার দাবি সত্ত্বেও ক্রমাগত শিশুদের অকাল প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব বরণ এবং বিশাল জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ প্রক্রিয়া পুরো গাজাজুড়ে চলতে থাকা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চরম বাস্তবতাই তুলে ধরে।

বিদ্যমান এই করুণ পরিস্থিতিতে গাজার ছোট ছোট শিশুদের জীবনের পূর্ণ সুরক্ষাদান, আঘাতপ্রাপ্ত শিশুদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ বাসস্থানের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।