ভারতে সাম্প্রতিককালে দানা বেঁধে ওঠা যুব আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিক্ষোভকে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ক্ষমতার পটপরিবর্তনের আদলে পরিচালিত এক গভীর ‘সরকার পতনের ষড়যন্ত্র’ বলে কড়া আখ্যা প্রদান করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
বিক্ষোভের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মুনাফা লুটার অভিযোগ এনেছেন এবং একই সাথে বিতর্কিত রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, চলমান এই আন্দোলন মূলত কোনো ধরনের নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার কিংবা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে নয়; বরং তরুণ সমাজকে অরাজক রাজনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে রাজপথে সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচিত ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিরোধীদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য করে রাজনাথ সিং মন্তব্য করেন যে, ভারতের যুব সমাজকে নৈরাজ্যের দাবার ঘুঁটি বানানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশে যেভাবে রাজপথের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল সম্পন্ন হয়েছিল, ভারতেও ঠিক একইভাবে একই কৌশল প্রয়োগ করে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটানোর চক্রান্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারী তরুণদের একটি অংশ প্রকাশ্যে স্বীকার করছে যে তারা সরকার উৎখাতের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা লাভ করেছে। অন্যদিকে, আরেকটি অংশ রাজপথে নেমে সশস্ত্র বা হিংসাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটানোর প্রকাশ্যে হুঙ্কার দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে সারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
ভারতের ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেস দলের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির বর্তমান নেতৃত্ব ‘গান্ধী’ পদবি ব্যবহারের সকল নৈতিক অধিকার বহুকাল আগেই হারিয়েছে। কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীদের মুখে ব্যবহৃত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা ‘ক্ষমতা পরিবর্তন’-এর মতো আন্তর্জাতিক পরিভাষাগুলোই প্রমাণ করে যে, তাদের এই আন্দোলন কোনো নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য নয়। তাদের আসল উদ্দেশ্য ভারতের সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভগুলোকে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া এবং পরিকল্পিতভাবে সারা দেশে চরম অস্থিরতা তৈরি করা।
এদিকে, ভারতে বিজেপিঘেঁষা একাধিক সংবাদমাধ্যমে নেহা বোরা নামের এক নারী আন্দোলনকারীর তারিখবিহীন ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ার পর এই বিতর্কের আগুন আরও উসকে উঠে। বিজেপি নেতাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নেহা বোরাকে বলতে শোনা যায় যে, সমগ্র ভারতের আনাচকানাচে জেন-জি (Gen-Z) তরুণদের যে অভূতপূর্ব আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল মূলত বাংলাদেশে।
উক্ত ভিডিওতে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রতিবাদকে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের সাথে তুলনা করেন। তবে নিরপেক্ষ কোনো সংবাদ মাধ্যম থেকে প্রচারিত ওই ভিডিওচিত্রের সত্যতা বা নির্মাণের সুনির্দিষ্ট সময়কাল নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।























