Dhaka ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সীমান্তে ১২৭৫ জনের অবৈধ অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৫২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

চলতি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দেশের প্রায় ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলাজুড়ে ১৮২টির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পুশইনের ঘটনার মাধ্যমে ১ হাজার ২৭৫ জন ব্যক্তির সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা সফলতা ও পেশাদারিত্বের সাথে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চল দিয়ে জোরপূর্বক কোনো সাধারণ মানুষকে ঠেলে পাঠানোর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অপতৎপরতা রুখতে সর্বোচ্চ সততা, পেশাদার কৌশল ও সংযমের সাথে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্য। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সীমান্ত পাহারার সার্বিক নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানোর পাশাপাশি সম্পর্কিত প্রতিপক্ষগুলোর সাথে দ্বি-পাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে বিশেষভাবে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান দেশের সার্বিক সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত এসব তথ্য উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সীমান্ত প্রতিরক্ষা ও ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে কোনো অবস্থান হতেই অবৈধ প্রভাব, চাপ কিংবা অপকৌশল মেনে নেওয়া হবে না এবং এই বিষয়ে বিজিবি বিন্দুমাত্র আপস করবে না। দেশের প্রচলিত জাতীয় আইন, বিধিমালা ও পূর্বনির্ধারিত সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রটোকল কঠোরভাবে বজায় রেখে বাহিনীটি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব নির্বাহ করে যাচ্ছে।

সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখন অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, দিন ও রাতে ব্যবহারের বিশেষ পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তির নানামুখী ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এগুলোর সাথে সীমান্তসংলগ্ন জনপদের সাধারণ মানুষদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয় তরুণদের কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং বিবিধ মানবিক সহায়তা কর্মসূচিও সচল রাখা হয়েছে।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চোরাচালান রোধে পরিচালিত অভিযানসংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে যেয়ে বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, পুশইন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের পাশাপাশি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার রাখা হয়েছে। ফলে চলতি ২০২৬ সালের পৃথক পৃথক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, ১টি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২০০ রাউন্ডের বেশি তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এ ছাড়া মাদক চোরাকারবারি, অস্ত্র ব্যবসা ও অন্যান্য শুল্কফাঁকি দেওয়া চোরাচালানে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে থাকার দায়ে ১ হাজার ৯৫৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুবিধার্থে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট থানাজুড়ে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিজিবির অফিশিয়াল বিবরণী ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত বহুমুখী বিশেষ অপারেশনে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকারও বেশি অর্থমূল্যের সীমান্ত চোরের চালানের অবৈধ মালামাল আটক বা জব্দ করা হয়েছে। আটককৃত বিপুল মালামালের তালিকায় রয়েছে অতি মূল্যবান সব মাদক, খাঁটি স্বর্ণের বার, বহুমুখী তৈরি পোশাক ও নানা কসমেটিকস প্রসাধনসামগ্রী। মূলত সফল এই ধরনের অভিযান দেশের অর্থনৈতিক ভিত সুরক্ষা দিতে অনন্য অবদান রেখে চলেছে।

দেশের সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ করাকে নিজেদের প্রধান অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিজিবির পক্ষ হতে জানানো হয় যে, গত ৯ মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অপারেশনে ২ কোটি ৬০ লাখের অধিক পিস ভয়ংকর ইয়াবা, প্রায় ৪০ কেজি ক্ষতিকর ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১২ কেজির বেশি মূল্যবান হেরোইন ও কোকেন, ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, প্রায় ২৪ হাজার বোতল তরল ফেনসিডিল এবং ১ লাখের মতো বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, আটককৃত প্রতিটি মাদকের চালানের সাথে দেশের অসংখ্য উদীয়মান তরুণের ভবিষ্যৎ জীবনের শান্তি রক্ষা এবং লাখো সাধারণ পরিবারের নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত রয়েছে। আর সেই মানবিক তাগিদ থেকেই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় প্রহরীর মতো দিনরাত বিজিবির জওয়ানরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সীমান্তে ১২৭৫ জনের অবৈধ অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৫২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

চলতি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দেশের প্রায় ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলাজুড়ে ১৮২টির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পুশইনের ঘটনার মাধ্যমে ১ হাজার ২৭৫ জন ব্যক্তির সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা সফলতা ও পেশাদারিত্বের সাথে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চল দিয়ে জোরপূর্বক কোনো সাধারণ মানুষকে ঠেলে পাঠানোর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অপতৎপরতা রুখতে সর্বোচ্চ সততা, পেশাদার কৌশল ও সংযমের সাথে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্য। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সীমান্ত পাহারার সার্বিক নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানোর পাশাপাশি সম্পর্কিত প্রতিপক্ষগুলোর সাথে দ্বি-পাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে বিশেষভাবে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান দেশের সার্বিক সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত এসব তথ্য উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সীমান্ত প্রতিরক্ষা ও ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে কোনো অবস্থান হতেই অবৈধ প্রভাব, চাপ কিংবা অপকৌশল মেনে নেওয়া হবে না এবং এই বিষয়ে বিজিবি বিন্দুমাত্র আপস করবে না। দেশের প্রচলিত জাতীয় আইন, বিধিমালা ও পূর্বনির্ধারিত সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রটোকল কঠোরভাবে বজায় রেখে বাহিনীটি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব নির্বাহ করে যাচ্ছে।

সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখন অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, দিন ও রাতে ব্যবহারের বিশেষ পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তির নানামুখী ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এগুলোর সাথে সীমান্তসংলগ্ন জনপদের সাধারণ মানুষদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয় তরুণদের কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং বিবিধ মানবিক সহায়তা কর্মসূচিও সচল রাখা হয়েছে।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চোরাচালান রোধে পরিচালিত অভিযানসংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে যেয়ে বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, পুশইন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের পাশাপাশি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার রাখা হয়েছে। ফলে চলতি ২০২৬ সালের পৃথক পৃথক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, ১টি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২০০ রাউন্ডের বেশি তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এ ছাড়া মাদক চোরাকারবারি, অস্ত্র ব্যবসা ও অন্যান্য শুল্কফাঁকি দেওয়া চোরাচালানে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে থাকার দায়ে ১ হাজার ৯৫৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুবিধার্থে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট থানাজুড়ে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিজিবির অফিশিয়াল বিবরণী ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত বহুমুখী বিশেষ অপারেশনে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকারও বেশি অর্থমূল্যের সীমান্ত চোরের চালানের অবৈধ মালামাল আটক বা জব্দ করা হয়েছে। আটককৃত বিপুল মালামালের তালিকায় রয়েছে অতি মূল্যবান সব মাদক, খাঁটি স্বর্ণের বার, বহুমুখী তৈরি পোশাক ও নানা কসমেটিকস প্রসাধনসামগ্রী। মূলত সফল এই ধরনের অভিযান দেশের অর্থনৈতিক ভিত সুরক্ষা দিতে অনন্য অবদান রেখে চলেছে।

দেশের সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ করাকে নিজেদের প্রধান অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিজিবির পক্ষ হতে জানানো হয় যে, গত ৯ মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অপারেশনে ২ কোটি ৬০ লাখের অধিক পিস ভয়ংকর ইয়াবা, প্রায় ৪০ কেজি ক্ষতিকর ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১২ কেজির বেশি মূল্যবান হেরোইন ও কোকেন, ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, প্রায় ২৪ হাজার বোতল তরল ফেনসিডিল এবং ১ লাখের মতো বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, আটককৃত প্রতিটি মাদকের চালানের সাথে দেশের অসংখ্য উদীয়মান তরুণের ভবিষ্যৎ জীবনের শান্তি রক্ষা এবং লাখো সাধারণ পরিবারের নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত রয়েছে। আর সেই মানবিক তাগিদ থেকেই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় প্রহরীর মতো দিনরাত বিজিবির জওয়ানরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।