ভারতের উত্তরাখণ্ডের আলোচিত অনকিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অভিনব কর্মসূচি পালন করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া গেটে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে তিনি নিহত তরুণীর বাবা-মায়ের সঙ্গে বিচার চাওয়ার ধর্না কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বসে পড়েন।
২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাখণ্ডের হৃষীকেশের বনান্তরা রিসোর্টে কর্মরত ১৯ বছর বয়সী অনকিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। রিসোর্টে কাজে যোগ দেওয়ার মাত্র ২০ দিনের মাথায় তিনি নিখোঁজ হন এবং ছয় দিন পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টের মালিক ও সাবেক বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের ছেলে পুলকিত আর্য অনকিতাকে এক ‘ভিআইপি’ অতিথিকে যৌন সেবা দিতে বাধ্য করার অপচেষ্টা চালান। অনকিতা এর জোরালো প্রতিবাদ করলে তাঁকে হত্যা করে খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হত্যা, যৌন নিপীড়ন ও তথ্যপ্রমাণ ধ্বংসের অভিযোগে পুলকিত আর্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইন্ডিয়া গেটে এই কর্মসূচির পেছনে সম্প্রতি নতুন একটি প্রেক্ষাপট যুক্ত হয়েছে। দুষ্যন্ত গৌতমকে সিকিমের নতুন রাজ্যপাল পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহতের পরিবার রাহুল গান্ধীর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কংগ্রেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রচারিত এক ভিডিওতে অনকিতার বাবা ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানান, সিবিআই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত কথিত ভিআইপির নাম প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত দুষ্যন্ত গৌতমের রাজ্যপাল পদে নিয়োগ যাতে স্থগিত বা বাতিল করা হয়।
নিহত অনকিতার পিতা-মাতার পাশে বসে সংহতি জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সত্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে আসা রাহুল গান্ধীর এই অবস্থান ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে নতুন করে রাজনৈতিক অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।























