দিল্লিতে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত তীব্র আন্দোলন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেই ভারত দেশকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিক্ষোভ দমনের লাগাতার অভিযোগের মুখে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে প্রকাশ্যে এসে দেওয়া তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে প্রধান অতিথির দীর্ঘ বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন মোদী। এ সময় তিনি ভারতের বহুমুখী গণতন্ত্র, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তবে তাঁর এই ভাষণের সঙ্গে মাঠের বাস্তব পরিস্থিতির চরম অমিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে প্রভাবশালী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’।
চলতি মাসের গত ১০ অক্টোবর থেকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পরিচালিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে রাজপথে নেমেছে বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোতে এর ফলে নাগরিকত্ব ও সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার পথ রুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই আন্দোলন দমনে গত কয়েক দিনে দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করে। রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, ছাত্রনেতাদের নির্বিচারে আটক করা, রেল যোগাযোগ সীমিত করা এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। এমনকি বিক্ষোভ দমনে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় এবং আটককেন্দ্রগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
এমন উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ব্লুমবার্গ ফোরামে নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন, “ভারত হলো গণতন্ত্রের জননী। আমাদের দেশে ১০০-রও বেশি ভাষা, প্রায় ৮০ হাজার নিবন্ধিত সংবাদপত্র এবং ১ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে ভারতে ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটিরও বেশি।” তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে সেটি আসল প্রশ্ন নয়, বরং প্রশ্ন হলো সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
তবে মোদীর এই বক্তব্য ও ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রশংসাকে বাস্তবতাবিবর্জিত বলে সমালোচনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, যখন নাগরিকদের ডিজিটাল মতপ্রকাশ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকার খর্ব করে আন্দোলন দমন করা হচ্ছে, ঠিক তখনই ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের গুণগান গাওয়ায় সরকারের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর পাশাপাশি আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে সরকার প্রস্তাবিত ইউপিআই (UPI) লেনদেনের নতুন চার্জ কার্যকর হতে যাওয়ায় দেশের ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।























