নওগাঁয় স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাহসিকতা ও সময়োপযোগী বাধার মুখে অবৈধভাবে পাচারের সময় ১২০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সারগুলো রাজশাহীতে পাচার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১০টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি-হাপানিয়া সড়কে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুবলহাটি বিসিআইসি সার ডিলার পয়েন্ট ‘মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স’-এর গুদাম থেকে দুটি নসিমন গাড়িতে মোট ১২০ বস্তা ডিএপি সার বোঝাই করা হয়। গাড়ি দুটি রাজশাহীর দিকে রওনা দিলে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে তারা পথিমধ্যে গাড়ি দুটি থামিয়ে চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে সারগুলো রাজশাহীতে পাচার করা হচ্ছে বলে তথ্য বেরিয়ে আসে।
খবর পেয়ে ‘মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স’-এর ব্যবস্থাপক মামুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে স্থানীয় জনতার তীব্র ক্ষোভ ও পুলিশ আসার খবর পেয়ে তিনি কৌশলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে মামুন দাবি করেন যে, প্রতিষ্ঠানের মালিক ওয়াসেফ আলী মোল্লার নির্দেশেই মেমো কেটে গাড়ি দুটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তবে এই সার কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে বা সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় পাঠানো হচ্ছিল সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল আমিন জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ ফোর্সকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে ৬০ বস্তা করে মোট ১২০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়।
ইউএনও আরও জানান, ঘটনাস্থলে ডিলার বা তার কোনো অনুমোদিত প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দকৃত সারগুলো আপাতত দুবলহাটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই সারগুলো দুবলহাটি ইউনিয়নের প্রকৃত ও স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত সরকারি মূল্যে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রির সমস্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হবে। অবৈধভাবে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।


























