পিরোজপুরের নাজিরপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আর্থিক জরিমানা করার জেরে দায়িত্ব পালনকারী এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক অসাধু সার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার দীঘিরজান বাজার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপুল কুমার মল্লিক বাদী হয়ে অভিযুক্ত সার ব্যবসায়ী মো. বাবুল মোল্লার বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বাবুল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে দীঘিরজান বাজারে কোনো প্রকার বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে সারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিবের যৌথ নেতৃত্বে ওই বাজারে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়, যেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপুল কুমার মল্লিক। অভিযানকালে বাবুল মোল্লার দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ২ বস্তা ইউরিয়া, সাড়ে ৩ বস্তা ডিএপি, এক বস্তা এমওপি এবং পাঁচ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়। লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযান শেষে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপুল কুমার মল্লিক ব্যক্তিগত কেনাকাটার জন্য বাজারে গেলে অভিযুক্ত বাবুল মোল্লা তাঁর পথরোধ করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সহায়তার দায়ে তাকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন বাবুল মোল্লা। হামলায় ওই কর্মকর্তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ইশরাতুন্নেছা এশা জানান, লাইসেন্সহীন সার বিক্রির অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বাবুল মোল্লাকে জরিমানা ও সার জব্দ করা হয়। অভিযান চলাকালেই তিনি চরম অসদাচরণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে আমরা স্থান ত্যাগ করলে সুযোগ বুঝে সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলা চালান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব জানান, সরকারি কর্মকর্তার ওপর আক্রমণের এই ঘটনায় বুধবার অফিস খোলার পর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে পরবর্তী আইনানুগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।


























