যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে জ্বালানির উচ্চমূল্য, ইরান যুদ্ধ ও ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট শুরু হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে পারছে না।
সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প, যার আওতায় রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানির কথা বলা হয়। ট্রাম্প মার্কিন ট্রেজারি বিভাগকে রুশ ডিজেল বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করারও নির্দেশ দেন। তবে রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন খোদ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এ চুক্তির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধকে অর্থায়নে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতির কথা ট্রাম্প প্রচার করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, চুক্তিটি সম্পর্কে তাদের আগে কিছু জানানো হয়নি এবং এর মধ্যেই ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। জেলেনস্কির বিরুদ্ধে তোপ দেগে ট্রাম্প কিয়েভকে তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে সতর্ক করেছেন এবং প্রয়োজনে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিতের হুমকি দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা এবং সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে জ্বালানির ঊর্ধ্বগতি এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার দায় ভোটারদের অসন্তোষে রূপ নেওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের দল বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।























