নারীর অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নিজের অর্জিত মেধা ও উৎপাদিত পণ্য যথাযথভাবে তুলে ধরতে সার্বিক যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে দেশের প্রচলিত স্কুল-কলেজের শিক্ষাক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় যোগাযোগ দক্ষতা বা ‘কমিউনিকেশন স্কিল’ শেখানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতি দূর করারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোইকা) এবং জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিল (ইউনিসেফ)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পর্যবেক্ষণ ও বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের প্রচলিত ক্ষমতায়ন কৌশল প্রসঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কেবল একটি সেলাই মেশিন অনুদান হিসেবে প্রদান করে কোনো নারীকে সত্যিকারের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলে ভাবলে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সেই প্রদত্ত সেলাই মেশিন সঠিকভাবে ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে কীভাবে বাজারের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ রক্ষা করবেন, কীভাবে ক্রেতাদের কাছে নিজের পণ্য ও নিজস্ব দক্ষতা তুলে ধরবেন—সেজন্য সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত প্রয়োজন।’
আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের প্রচলিত স্কুল-কলেজগুলোতে যোগাযোগ দক্ষতা শেখানোর বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ও যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করা হয় না।’
বাংলাদেশের গ্রামীণ ও সামাজিক বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘আমাদের দেশের সার্বিক সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন নারীকে তাঁর পরিবার থেকে পুরোপুরি আলাদা করে বিবেচনা করা বাস্তবে সম্ভব নয়। কাজেই কোনো নারীকে কেবল ব্যক্তিগত বা অর্থনৈতিকভাবে সাময়িকভাবে ক্ষমতায়ন করলেই চলবে না; বরং তাঁর পুরো পরিবারকেও টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে মূল কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত ও সম্পৃক্ত করতে হবে।’
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের সম্মানিত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ, কোইকা বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা জিহুন কিম এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ শিক্ষা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা দীপা শংকরসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।






















