Dhaka ১০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ডেটা সেন্টার ও এআই স্থাপনা ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ইরানের

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৭ বার দেখা হয়েছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো সামরিক আক্রমণ চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং যোগাযোগের সাবমেরিন কেব্‌লগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের এই প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত অবকাঠামোগুলোকে ওই এলাকায় মার্কিন অর্থনীতির মূল ‘স্পন্দন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই সম্পদগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় কোনো আগ্রাসী হামলা চালায়, তবে তা মোকাবিলা করতে এবং নতুন সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

গত রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিতে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মোহসেন রেজায়ি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের এসব আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপনা এখনও সরাসরি ইরানের সামরিক হামলার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাতের সূচনা করে, তবে এই মূল্যবান সম্পদগুলো আর অক্ষত থাকবে না এবং ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

প্রায় ৩০ মিনিটের দীর্ঘ ওই সাক্ষাৎকারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

মোহসেন রেজায়ি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ব্যয়বহুল বহু সম্পদ ও অবকাঠামো ছড়িয়ে রয়েছে। আমরা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে এই সম্পদগুলোকে আমাদের লক্ষ্যবস্তুর প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিনি। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে এই সাবমেরিন কেব্‌ল, সর্বাধুনিক ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় বড় স্থাপনা এবং এর মতো আরও অসংখ্য অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিগত সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই আমরা আমাদের সমস্ত সামরিক সক্ষমতা উন্মুক্ত করে দিয়ে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করিনি। কারণ তা করলে পরবর্তীতে সংকট মোকাবিলায় আমাদের হাতে সংরক্ষিত রাখার মতো খুব বেশি কিছু অবশিষ্ট থাকত না।’ বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে রেজায়ি বলেন, ‘আজ যদি নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়, তবে আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত, সুদূরপ্রসারী এবং ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক মোকাবিলা করব।’

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ডেটা সেন্টার ও এআই স্থাপনা ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ইরানের

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো সামরিক আক্রমণ চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং যোগাযোগের সাবমেরিন কেব্‌লগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের এই প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত অবকাঠামোগুলোকে ওই এলাকায় মার্কিন অর্থনীতির মূল ‘স্পন্দন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই সম্পদগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় কোনো আগ্রাসী হামলা চালায়, তবে তা মোকাবিলা করতে এবং নতুন সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

গত রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিতে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মোহসেন রেজায়ি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের এসব আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপনা এখনও সরাসরি ইরানের সামরিক হামলার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাতের সূচনা করে, তবে এই মূল্যবান সম্পদগুলো আর অক্ষত থাকবে না এবং ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

প্রায় ৩০ মিনিটের দীর্ঘ ওই সাক্ষাৎকারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

মোহসেন রেজায়ি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ব্যয়বহুল বহু সম্পদ ও অবকাঠামো ছড়িয়ে রয়েছে। আমরা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে এই সম্পদগুলোকে আমাদের লক্ষ্যবস্তুর প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিনি। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে এই সাবমেরিন কেব্‌ল, সর্বাধুনিক ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় বড় স্থাপনা এবং এর মতো আরও অসংখ্য অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিগত সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই আমরা আমাদের সমস্ত সামরিক সক্ষমতা উন্মুক্ত করে দিয়ে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করিনি। কারণ তা করলে পরবর্তীতে সংকট মোকাবিলায় আমাদের হাতে সংরক্ষিত রাখার মতো খুব বেশি কিছু অবশিষ্ট থাকত না।’ বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে রেজায়ি বলেন, ‘আজ যদি নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়, তবে আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত, সুদূরপ্রসারী এবং ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক মোকাবিলা করব।’