ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে থাকার পর ছাড়া পেয়েই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও সরকার-সমালোচক ধ্রুব রাঠি। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, তাঁকে কোনো নিয়ম মেনে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, বরং কার্যত অপহরণ করা হয়েছিল।
ধ্রুব রাঠির দাবি, শনিবার সকালে গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬-এর বাসা থেকে কোনো ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আইনি নোটিশ বা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না দিয়েই তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। ভিডিওতে নিজের পাসপোর্ট দেখিয়ে তিনি জানান, তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক এবং নাগরিকত্ব নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, শনিবার সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় কোনো ইউনিফর্ম ছাড়া অর্ধশতাধিক সাদাপোশাকের ব্যক্তি তাঁর বাসায় চড়াও হয়। তাঁর মাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে শোবার ঘর থেকে তাঁকে সিঁড়ি দিয়ে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়, যার ফলে তিনি আঘাত পান।
ধ্রুব রাঠি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি বা আন্দোলনস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তা সত্ত্বেও তাঁর ও তাঁর বাবা-মায়ের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ২০ থেকে ২৩ ঘণ্টা বিভিন্ন থানায় ঘুরিয়ে আটকে রাখা হয়। এমনকি থানার কর্মকর্তারাও তাঁকে জানান যে তিনি আটক বা গ্রেপ্তার নন। এ ধরনের আচরণকে স্বৈরতান্ত্রিক ও অঘোষিত জরুরি অবস্থার শামিল বলে আখ্যা দেন তিনি।
ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, ছাড়া পাওয়ার পরও তাঁর ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক লোকজন তাঁকে অনুসরণ করছে। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে তিনি ইতিহাসের একনায়কদের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। একই সঙ্গে কঠিন সময়ে পাশে থাকায় পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক ও সিজিপি নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।























