ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও আন্দোলনকারী হাজার হাজার মানুষের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ রুখতে চরম কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। আন্দোলনকারীদের যন্তরমন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে দিল্লিগামী দূরপাল্লার ট্রেন, অভ্যন্তরীণ মেট্রো এবং সাধারণ বাস চলাচল বন্ধ করে পুরো এলাকাকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও যুক্তরাজ্যের ‘বিবিসি’-র বরাতে প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দিল্লির এই চরম থমথমে ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর জানা গেছে।
যন্তরমন্তর থেকে সরাসরি সংবাদ পাঠ্য প্রতিবেদনে ‘বিবিসি’-র প্রতিনিধি গীতা পান্ডে জানান, রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তর এলাকায় পুলিশের বিশাল সদস্য বহর সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়েছে। মাথার ওপর ড্রোন দিয়ে চালানো হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন আকাশপথের নজরদারি এবং সড়কজুড়ে বসানো হয়েছে ভারী লোহার ব্যারিকেড। দিল্লির যন্তরমন্তর অভিমুখে কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পেশাগত দায়িত্ব পালনে আসা একাধিক গণমাধ্যমকর্মীকেও গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে। এ তালিকায় যুক্ত রয়েছে ভারতের জনপ্রিয় স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘নিউজলন্ড্রি’ ও ‘স্ক্রল’-এর সাংবাদিকরা।
প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, আন্দোলন দমন করতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় এক হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী ও নেতাকর্মীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। আটকদের মধ্যে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপসহ দলের একাধিক শীর্ষপর্যায়ের নীতিনির্ধারক রয়েছেন। এ ছাড়া এই আন্দোলনে সংহতি ও যোগ দিতে জার্মানি থেকে ভারতে আসা জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও তাঁর বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কোটি কোটি ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে রহস্যজনকভাবে বাদ দিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তোলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তরমন্তরে এই গণবিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে এই যন্তরমন্তরেই দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল সিজেপি ও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তাঁদের এই চলমান আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী।























