স্পেনে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় দেশজুড়ে আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হওয়া ৮৭ বছর বয়সি মারিয়া দেল কারমেন আবাসকাল মারা গেছেন। তার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সৃষ্ট তীব্র প্রতিবাদের মুখে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। আবাসকালের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার স্পেনের পার্লামেন্টের বাইরে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশটির আইনসভাতেও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদে নিজ বাড়ি থেকে স্ট্রেচারে করে আবাসকালকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছিল, যার ফলে তীব্র মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তার মৃত্যু হয়। যদিও হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই তার বাড়ি ফিরে যাওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল, কিন্তু বাড়ি ফেরার সেই সৌভাগ্য আর তার হয়নি। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
আবাসকালের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা। রাজধানীর কেন্দ্রীয় পুয়ের্তা দেল সল চত্বরের প্রতিবাদ শিবির থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল তার উচ্ছেদ হওয়া বাড়ির দিকে যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘এগুলো মৃত্যু নয়, হত্যা’ স্লোগানে মুখর ছিলেন। আবাসকালের বাড়ির সামনে শোকাহত মানুষ ফুল, মোমবাতি ও হাতে লেখা বার্তা রেখে শ্রদ্ধা জানান। এদিকে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্পেনের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট ও চড়া ভাড়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। জরুরি আবাসনসংক্রান্ত ব্যবস্থা পাস করতে পার্লামেন্টের ব্যর্থতার জেরে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ২৯ নভেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তবে এই মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও শুরু হয়েছে দোষারোপের রাজনীতি। রক্ষণশীল বিরোধী দল পিপির নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ও সমাজতন্ত্রীদের বিরুদ্ধে আবাসনসংকটকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।























