Dhaka ১২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

দেশের ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে: বিশ্বব্যাংক

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দারিদ্র্যের হার নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে অবস্থান করা প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ যেকোনো মুহূর্তে দরিদ্র শ্রেণিতে নেমে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। গত চার বছরে বাংলাদেশে নতুন করে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন, যার মধ্যে শুধুমাত্র গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন।

‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট: মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারি, জ্বালানি সংকট, দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের খরা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কর ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে অতি দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থাকলেও ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, মোট দারিদ্র্যের হার বেড়ে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যার ফলে বর্তমানে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হ্রাসের মূল কারণগুলোর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের চরম দুর্বলতা অন্যতম। করোনাকালীন স্থবিরতা কাটলেও লাগাতার দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়কার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে আশানুরূপ আগ্রহ দেখাননি। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ সংকুচিত হয়েছে।

এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সুফল বণ্টন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৬২ শতাংশ দরিদ্র মানুষ প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া ভর্তুকির একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে সমাজের উচ্চবিত্ত বা ধনী শ্রেণির মানুষের পকেটে, কারণ তারাই তুলনামূলকভাবে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকেন। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ঢালাওভাবে ভর্তুকি না দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাগুলো যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের মাঝে পৌঁছাতে পারলে বিপুল সংখ্যক মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনা সম্ভব।

বর্তমান সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভঙ্গুর ব্যাংক খাতের মতো প্রধান সমস্যাগুলো তারা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। বর্তমানে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং বিশ্বব্যাংকের সংস্কারমূলক পরামর্শগুলো গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে: বিশ্বব্যাংক

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দারিদ্র্যের হার নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে অবস্থান করা প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ যেকোনো মুহূর্তে দরিদ্র শ্রেণিতে নেমে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। গত চার বছরে বাংলাদেশে নতুন করে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন, যার মধ্যে শুধুমাত্র গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন।

‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট: মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারি, জ্বালানি সংকট, দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের খরা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কর ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে অতি দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থাকলেও ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, মোট দারিদ্র্যের হার বেড়ে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যার ফলে বর্তমানে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হ্রাসের মূল কারণগুলোর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের চরম দুর্বলতা অন্যতম। করোনাকালীন স্থবিরতা কাটলেও লাগাতার দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়কার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে আশানুরূপ আগ্রহ দেখাননি। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ সংকুচিত হয়েছে।

এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সুফল বণ্টন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৬২ শতাংশ দরিদ্র মানুষ প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া ভর্তুকির একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে সমাজের উচ্চবিত্ত বা ধনী শ্রেণির মানুষের পকেটে, কারণ তারাই তুলনামূলকভাবে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকেন। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ঢালাওভাবে ভর্তুকি না দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাগুলো যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের মাঝে পৌঁছাতে পারলে বিপুল সংখ্যক মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনা সম্ভব।

বর্তমান সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভঙ্গুর ব্যাংক খাতের মতো প্রধান সমস্যাগুলো তারা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। বর্তমানে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং বিশ্বব্যাংকের সংস্কারমূলক পরামর্শগুলো গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।