ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাতভর অত্যন্ত তীব্র ও ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সংঘটিত এই বর্বর হামলায় কমপক্ষে ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে মর্মান্তিকভাবেই ৫টি নিষ্পাপ শিশুও রয়েছে। নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজন ছিল মাত্র এক বছর বয়সী এবং একজন আট বছর বয়সী শিশু। চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের ওপর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় তারা চিরতরে প্রাণ হারায়। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় পাঁচতলা ভবনটির একটি অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর এক বিশাল স্তূপে পরিণত হয়েছে। এই ভয়াবহ হামলায় বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত সাতজন শিশুও রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক শহর ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য জোরালোভাবে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, ইউক্রেনের শান্তপ্রিয় জনগণ ও কোমলমতি শিশুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার আসলে আতঙ্ক ও সন্ত্রাস সৃষ্টির একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ। প্রিলুকির স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, গত বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শহরটিতে এই আকস্মিক হামলা শুরু হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে শীতকাল দ্রুত ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ইউক্রেনজুড়ে রুশ সামরিক বাহিনীর এই হামলার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন শহরে অবিরাম বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজে চলেছে। আতঙ্কে বিহ্বল সাধারণ বাসিন্দারা রাতের বেলা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে গিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে যে, গত বুধবার রুশ বাহিনী ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩০টি ঘাতক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত হামলা’ হিসেবে এটিকে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন যে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করাই এখন ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার জন্য অতি দ্রুত নতুন ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।























