Dhaka ১১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

রাশিয়ার জ্বালানি সংকটে মধ্য এশিয়ায় ইরানের সুযোগ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত সংকট রাশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে, যার ফলে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির এক নতুন ও সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ইরানের জন্য। মার্কিন কঠোর অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানিতে নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার মুখে থাকা তেহরান এই সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তানের মতো মধ্য এশীয় দেশগুলো তাদের জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগই রাশিয়া থেকে আমদানি করত। তবে বর্তমানে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় টান পড়ায় তারা বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎস হিসেবে ইরানের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির অংশ হিসেবে তাজিকিস্তান ইতিমধ্যেই ইরান থেকে সরাসরি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি শুরু করেছে এবং কিরগিজস্তানে একটি যৌথ শোধনাগার নির্মাণের জন্য ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, মধ্য এশীয় অঞ্চলে ইরানের এই তেল ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব এবং প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো ভৌগোলিক ও লজিস্টিক জটিলতা; ইরান থেকে এই তেল মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পৌঁছাতে হলে মাঝপথে তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলোর ওপর দিয়ে জটিল রেলপথে যাতায়াত করতে হয়, যা যথেষ্ট দুরূহ ও ব্যয়বহুল।

তাছাড়া, অদূর ভবিষ্যতে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলে কিংবা রাশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগারগুলো সম্পূর্ণভাবে মেরামত হয়ে পুনরায় সচল হলে বিশেষ শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধার কারণে তুলনামূলক কম মূল্যে রাশিয়ার তেলই আবার আঞ্চলিক বাজারে ফিরে আসবে, যেখানে ইরান টিকতে পারবে না। পাশাপাশি, ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের জ্বালানি লেনদেন বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র ঝুঁকি ও খড়্গ তো লেগেই রয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাশিয়ার জ্বালানি সংকটে মধ্য এশিয়ায় ইরানের সুযোগ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত সংকট রাশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে, যার ফলে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির এক নতুন ও সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ইরানের জন্য। মার্কিন কঠোর অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানিতে নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার মুখে থাকা তেহরান এই সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তানের মতো মধ্য এশীয় দেশগুলো তাদের জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগই রাশিয়া থেকে আমদানি করত। তবে বর্তমানে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় টান পড়ায় তারা বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎস হিসেবে ইরানের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির অংশ হিসেবে তাজিকিস্তান ইতিমধ্যেই ইরান থেকে সরাসরি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি শুরু করেছে এবং কিরগিজস্তানে একটি যৌথ শোধনাগার নির্মাণের জন্য ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, মধ্য এশীয় অঞ্চলে ইরানের এই তেল ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব এবং প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো ভৌগোলিক ও লজিস্টিক জটিলতা; ইরান থেকে এই তেল মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পৌঁছাতে হলে মাঝপথে তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলোর ওপর দিয়ে জটিল রেলপথে যাতায়াত করতে হয়, যা যথেষ্ট দুরূহ ও ব্যয়বহুল।

তাছাড়া, অদূর ভবিষ্যতে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলে কিংবা রাশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগারগুলো সম্পূর্ণভাবে মেরামত হয়ে পুনরায় সচল হলে বিশেষ শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধার কারণে তুলনামূলক কম মূল্যে রাশিয়ার তেলই আবার আঞ্চলিক বাজারে ফিরে আসবে, যেখানে ইরান টিকতে পারবে না। পাশাপাশি, ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের জ্বালানি লেনদেন বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র ঝুঁকি ও খড়্গ তো লেগেই রয়েছে।