Dhaka ১০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিশু একাডেমির কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

শুধু সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত ও সচ্ছল শিশুরাই নয়, বরং ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সকল সুবিধাবঞ্চিত শিশুকেও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির বহুমুখী কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট আওতার মধ্যে নিয়ে আসা হবে বলে জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের জন্য একটি সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার দিবস ২০২৬’ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী বা ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে পঞ্চাশ বছর: অর্জন, অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মোঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে আসন অলংকৃত করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান। সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্মরণ করেন যে, জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী শিশুদের অধিকার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিন্তাভাবনা বা কার্যক্রম শুরু করার অনেক আগেই সুদূরপ্রসারী দূরদর্শিতা নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের শিশুদের সার্বিক কল্যাণে এ ধরনের যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ে কোমলমতি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভাবিকাশের সুযোগ সমানভাবে পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে শিশু একাডেমির কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ব্যাপকভিত্তিতে সম্প্রসারিত করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিশুদের কেবল গতানুগতিক পুঁথিগত বিদ্যার সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের খেলাধুলা, কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল ও মননশীল কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সরকারের এই সদিচ্ছা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই ঐতিহ্যবাহী ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নতুনভাবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করা হয়েছে, যেখানে ১৪টি ভিন্ন ভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী একটি বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মোঈন খান বলেন যে, আজকের এই কোমলমতি শিশুরাই আগামী দিনে রাষ্ট্র ও সমাজের মূল নেতৃত্ব গ্রহণ করবে এবং দেশকে উন্নত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই শিশুদের সঠিক দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে নৈতিকতা সম্পন্ন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের ওপর বর্তায়। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও জীবনদর্শন যথাযথভাবে অনুসরণ করে শিশুদের দেশের সত্যিকারের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের শিশুদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও শারীরিক-মানসিক বিকাশের জন্য যে সমস্ত ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বর্তমান সরকারও শিশুদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধার নতুন নতুন দ্বার উন্মুক্ত করেছে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, শিশুদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই চলবে না, বরং তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও সুকুমার প্রবৃত্তি জাগিয়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি তিনি শিশু একাডেমির সামগ্রিক কার্যক্রম আরও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত করার জোরালো অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ। এছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। সেমিনারের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে বিশিষ্ট আলোচকবৃন্দ শিশুশ্রম চিরতরে নিরসন, অপুষ্টির অভিশাপ দূর করা, শিশুস্বাস্থ্য সুনিশ্চিতকরণ, বাল্যবিয়ে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের শিশুদের সার্বিক কল্যাণ ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে একটি বিশেষ ‘সার্ক শিশু সম্মেলন’ আয়োজনের চমৎকার একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এই সেমিনারে উত্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম। উক্ত সেমিনারে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সম্মানিত বোর্ড সদস্যবৃন্দ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার উচ্চপদস্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিগণ, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, বরেণ্য সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আমন্ত্রিত শিশু একাডেমির খুদে শিক্ষার্থীরা সাগ্রহে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিশু একাডেমির কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

শুধু সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত ও সচ্ছল শিশুরাই নয়, বরং ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সকল সুবিধাবঞ্চিত শিশুকেও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির বহুমুখী কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট আওতার মধ্যে নিয়ে আসা হবে বলে জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের জন্য একটি সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার দিবস ২০২৬’ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী বা ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে পঞ্চাশ বছর: অর্জন, অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মোঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে আসন অলংকৃত করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান। সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্মরণ করেন যে, জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী শিশুদের অধিকার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিন্তাভাবনা বা কার্যক্রম শুরু করার অনেক আগেই সুদূরপ্রসারী দূরদর্শিতা নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের শিশুদের সার্বিক কল্যাণে এ ধরনের যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ে কোমলমতি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভাবিকাশের সুযোগ সমানভাবে পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে শিশু একাডেমির কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ব্যাপকভিত্তিতে সম্প্রসারিত করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিশুদের কেবল গতানুগতিক পুঁথিগত বিদ্যার সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের খেলাধুলা, কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল ও মননশীল কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সরকারের এই সদিচ্ছা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই ঐতিহ্যবাহী ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নতুনভাবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করা হয়েছে, যেখানে ১৪টি ভিন্ন ভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী একটি বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মোঈন খান বলেন যে, আজকের এই কোমলমতি শিশুরাই আগামী দিনে রাষ্ট্র ও সমাজের মূল নেতৃত্ব গ্রহণ করবে এবং দেশকে উন্নত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই শিশুদের সঠিক দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে নৈতিকতা সম্পন্ন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের ওপর বর্তায়। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও জীবনদর্শন যথাযথভাবে অনুসরণ করে শিশুদের দেশের সত্যিকারের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের শিশুদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও শারীরিক-মানসিক বিকাশের জন্য যে সমস্ত ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বর্তমান সরকারও শিশুদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধার নতুন নতুন দ্বার উন্মুক্ত করেছে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, শিশুদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই চলবে না, বরং তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও সুকুমার প্রবৃত্তি জাগিয়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি তিনি শিশু একাডেমির সামগ্রিক কার্যক্রম আরও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত করার জোরালো অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ। এছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। সেমিনারের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে বিশিষ্ট আলোচকবৃন্দ শিশুশ্রম চিরতরে নিরসন, অপুষ্টির অভিশাপ দূর করা, শিশুস্বাস্থ্য সুনিশ্চিতকরণ, বাল্যবিয়ে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের শিশুদের সার্বিক কল্যাণ ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে একটি বিশেষ ‘সার্ক শিশু সম্মেলন’ আয়োজনের চমৎকার একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এই সেমিনারে উত্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম। উক্ত সেমিনারে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সম্মানিত বোর্ড সদস্যবৃন্দ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার উচ্চপদস্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিগণ, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, বরেণ্য সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আমন্ত্রিত শিশু একাডেমির খুদে শিক্ষার্থীরা সাগ্রহে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।