Dhaka ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সাম্প্রতিক পুনর্দখল-অভিযানের তীব্র সামরিক জবাব হিসেবে ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রনাধীন কৌশলগত বন্দর নগরী এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরের দিকে বিমানবন্দরটির মূল রানওয়ে ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল লক্ষ্য করে আকস্মিক এই দুটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলার ফলে মারাত্মক নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয় এবং মিসাইল আঘাত হানার ঠিক মাত্র কয়েক মিনিট আগে মিসরীয় রাজধানী কায়রো থেকে ছেড়ে আসা ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট রানওয়েতে অবতরণের উদ্দেশ্যে এগিয়ে এলেও শেষ মুহূর্তে তা সম্ভব না হওয়ায় ফ্লাইটটি বাধ্য হয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের জেদ্দায় নিরাপদ স্থানে চলে যায়।

প্রায় একই সময়ে ইয়েমেনের বাইরে প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অত্যন্ত সংবেদনশীল কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও শক্তিশালী ব্যালেস্টিক মিসাইল ও বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরানসমর্থিত হুতি যোদ্ধারা। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা ওই মিসাইল হামলাটি সফলভাবে মাঝপথেই নস্যাৎ করতে পেরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হুতি মুখপাত্র জেনারেল সারি নিশ্চিত করেছেন যে, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালানো হয়েছে।

পাশাপাশি, হুতিদের এই ধারাবাহিক ও সমন্বিত হামলায় সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের প্রধান সেনাঘাঁটি, জাজান প্রদেশের কৌশলগত দাঘারি ও আল-মাউসিম সেনাঘাঁটি এবং আসির প্রদেশের আনকিফাহ সেনাঘাঁটিতেও বেশ কয়েকটি ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হুতি মুখপাত্র আরও দাবি করেন যে, তাদের বাহিনীর নিক্ষিপ্ত সুনির্দিষ্ট ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কিং খালিদের পাশাপাশি আবহা বিমানবন্দরের সামগ্রিক ফ্লাইট অপারেশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। এছাড়া উল্লিখিত সেনাঘাঁটিগুলোর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলেও তারা দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, হুতিদের এই তীব্র হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তারা রিয়াদের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হওয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জানানো হয় যে, এই আক্রমণ প্রতিহত করার পর তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যন্ত সতর্কাবস্থায় রয়েছে। জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, ‘সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়ার ছোড়া ওই বিপজ্জনক ক্ষেপণাস্ত্রটি রিয়াদের উত্তরে সফলভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে।’

জেনারেল আল-মালিকি আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, সৌদি জোটের উন্নত গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে ব্যবহার করে ইয়েমেনের রাজধানী সানার ভেতরে অবস্থিত হুতিদের মূল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। লোহিত সাগর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৌদি সমর্থিত যৌথ বাহিনী এবং হুতি মিলিশিয়ার মধ্যকার এই নতুন সামরিক সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও নতুন নিরাপত্তা সংকটের জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সাম্প্রতিক পুনর্দখল-অভিযানের তীব্র সামরিক জবাব হিসেবে ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রনাধীন কৌশলগত বন্দর নগরী এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরের দিকে বিমানবন্দরটির মূল রানওয়ে ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল লক্ষ্য করে আকস্মিক এই দুটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলার ফলে মারাত্মক নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয় এবং মিসাইল আঘাত হানার ঠিক মাত্র কয়েক মিনিট আগে মিসরীয় রাজধানী কায়রো থেকে ছেড়ে আসা ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট রানওয়েতে অবতরণের উদ্দেশ্যে এগিয়ে এলেও শেষ মুহূর্তে তা সম্ভব না হওয়ায় ফ্লাইটটি বাধ্য হয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের জেদ্দায় নিরাপদ স্থানে চলে যায়।

প্রায় একই সময়ে ইয়েমেনের বাইরে প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অত্যন্ত সংবেদনশীল কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও শক্তিশালী ব্যালেস্টিক মিসাইল ও বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরানসমর্থিত হুতি যোদ্ধারা। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা ওই মিসাইল হামলাটি সফলভাবে মাঝপথেই নস্যাৎ করতে পেরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হুতি মুখপাত্র জেনারেল সারি নিশ্চিত করেছেন যে, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালানো হয়েছে।

পাশাপাশি, হুতিদের এই ধারাবাহিক ও সমন্বিত হামলায় সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের প্রধান সেনাঘাঁটি, জাজান প্রদেশের কৌশলগত দাঘারি ও আল-মাউসিম সেনাঘাঁটি এবং আসির প্রদেশের আনকিফাহ সেনাঘাঁটিতেও বেশ কয়েকটি ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হুতি মুখপাত্র আরও দাবি করেন যে, তাদের বাহিনীর নিক্ষিপ্ত সুনির্দিষ্ট ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কিং খালিদের পাশাপাশি আবহা বিমানবন্দরের সামগ্রিক ফ্লাইট অপারেশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। এছাড়া উল্লিখিত সেনাঘাঁটিগুলোর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলেও তারা দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, হুতিদের এই তীব্র হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তারা রিয়াদের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হওয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জানানো হয় যে, এই আক্রমণ প্রতিহত করার পর তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যন্ত সতর্কাবস্থায় রয়েছে। জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, ‘সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়ার ছোড়া ওই বিপজ্জনক ক্ষেপণাস্ত্রটি রিয়াদের উত্তরে সফলভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে।’

জেনারেল আল-মালিকি আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, সৌদি জোটের উন্নত গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে ব্যবহার করে ইয়েমেনের রাজধানী সানার ভেতরে অবস্থিত হুতিদের মূল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। লোহিত সাগর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৌদি সমর্থিত যৌথ বাহিনী এবং হুতি মিলিশিয়ার মধ্যকার এই নতুন সামরিক সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও নতুন নিরাপত্তা সংকটের জন্ম দিয়েছে।