বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রহীন ১৮টি অনুমোদনহীন রিসোর্ট ও ইকো কটেজের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকার সংবেদনশীল ও পরিবেশগত সংকটাপন্ন অঞ্চলে কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়াই এসব রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে তোলা হয়েছিল। ইতিপূর্বে অনুমোদনহীনভাবে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ১০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে অনুমোদনের আবেদন করা হলেও প্রয়োজনীয় ও যথাযথ কাগজপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের সেই আবেদনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি নবনির্মিত আরও আটটি রিসোর্টকে সাত দিনের মধ্যে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার তাদের বিরুদ্ধেও কার্যক্রম বন্ধ এবং ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের চারপাশের পরিবেশসংকটপূর্ণ এলাকায় অনুমোদনহীন রিসোর্ট ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন কার্যক্রমের বিস্তার নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তলব করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্দেশ অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং নিয়মিত মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


























