Dhaka ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে ইন্টারনেট বিধিনিষেধের ১০০ দিন অতিবাহিত

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে চলমান তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থার ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের ১০০ দিন পার হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত জুন মাসের সূচনাভাগে নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে জোরালো গণবিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠলে ওই অঞ্চলে মোবাইল ডেটা এবং ব্রডব্যান্ড সংযোগ বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অঞ্চলটিতে মোট তিন দফায় নির্বাচন পরিচালনা করা হয়, যার সর্বশেষ ধাপটি সম্পন্ন হয় গত ১০ আগস্ট। নির্বাচন শেষে ইতোমধ্যে নতুন সরকার গঠিত হলেও আংশিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট অব্যাহত রাখায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


​দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা অচল থাকায় অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত প্রধান প্রধান ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল অ্যাপসমূহ কাজ করছে না। ফলে পুরো অঞ্চলের বাণিজ্যিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনায় বিভিন্ন প্রবেশিকা ও ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত রাখায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা ‘নেটব্লকস’ নিশ্চিত করেছে যে, গত ৫ জুন থেকে এলাকাটিতে এই আংশিক ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।


​ঘটনার নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা ঘিরে মূলত এই উত্তেজনার সূত্রপাত। ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর দিক থেকে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীর একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থার অধীন পরিচালিত হয়, যেখানে নিজস্ব একজন প্রধানমন্ত্রী এবং ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি আইনসভা রয়েছে। আইনসভার ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতশাসিত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। গত ৫ জুন কর্তৃপক্ষ ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেকেজেএএসি) নামের একটি আঞ্চলিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বিভিন্ন তৃণমূল সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটটি আইনসভায় শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ওই ১২টি সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল।


​সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দিন অর্থাৎ ৫ জুন থেকেই অঞ্চলটিতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২৭ জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। স্থানীয় অধিবাসী ও আঞ্চলিক সূত্রগুলোর হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাত ও সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্যসহ ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি তীব্র উত্তপ্ত এলাকায় ভোটগ্রহণ করা সম্ভব না হলেও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির অন্যান্য আসনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে নতুন সরকার গঠন করা হয়; তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসলেও ইন্টারনেট সংযোগ এখনো স্বাভাবিক করা হয়নি।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে ইন্টারনেট বিধিনিষেধের ১০০ দিন অতিবাহিত

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে চলমান তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থার ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের ১০০ দিন পার হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত জুন মাসের সূচনাভাগে নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে জোরালো গণবিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠলে ওই অঞ্চলে মোবাইল ডেটা এবং ব্রডব্যান্ড সংযোগ বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অঞ্চলটিতে মোট তিন দফায় নির্বাচন পরিচালনা করা হয়, যার সর্বশেষ ধাপটি সম্পন্ন হয় গত ১০ আগস্ট। নির্বাচন শেষে ইতোমধ্যে নতুন সরকার গঠিত হলেও আংশিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট অব্যাহত রাখায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


​দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা অচল থাকায় অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত প্রধান প্রধান ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল অ্যাপসমূহ কাজ করছে না। ফলে পুরো অঞ্চলের বাণিজ্যিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনায় বিভিন্ন প্রবেশিকা ও ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত রাখায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা ‘নেটব্লকস’ নিশ্চিত করেছে যে, গত ৫ জুন থেকে এলাকাটিতে এই আংশিক ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।


​ঘটনার নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা ঘিরে মূলত এই উত্তেজনার সূত্রপাত। ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর দিক থেকে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীর একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থার অধীন পরিচালিত হয়, যেখানে নিজস্ব একজন প্রধানমন্ত্রী এবং ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি আইনসভা রয়েছে। আইনসভার ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতশাসিত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। গত ৫ জুন কর্তৃপক্ষ ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেকেজেএএসি) নামের একটি আঞ্চলিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বিভিন্ন তৃণমূল সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটটি আইনসভায় শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ওই ১২টি সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল।


​সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দিন অর্থাৎ ৫ জুন থেকেই অঞ্চলটিতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২৭ জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। স্থানীয় অধিবাসী ও আঞ্চলিক সূত্রগুলোর হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাত ও সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্যসহ ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি তীব্র উত্তপ্ত এলাকায় ভোটগ্রহণ করা সম্ভব না হলেও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির অন্যান্য আসনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে নতুন সরকার গঠন করা হয়; তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসলেও ইন্টারনেট সংযোগ এখনো স্বাভাবিক করা হয়নি।