মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়শিবিরে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। পন্নাগুন শহরের দুটি শিবিরে টানা দুই দিন ধরে এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও পন্নাগুন ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যের বরাতে এ খবর জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনের একটি জনবহুল বাজারে ভয়াবহ বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই রাজ্যটিতে আবারও বড় ধরনের বিমান হামলা চালাল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রোববার বিকেলে পন্নাগুন শহরের একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হলে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। এর পরদিন সোমবার সকালে শহরটির আরেকটি শিবিরে দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালানো হলে আরও দুজন নিহত ও দুজন আহত হন।
পন্নাগুন ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার শিকার হওয়া দুটি শিবিরের বাসিন্দারা মূলত গৃহহীন সাধারণ মানুষ, যারা যুদ্ধের কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
এই হামলার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের কোনো মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় তৎকালীন জান্তা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে থাকে।
বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা রাখাইন রাজ্য বর্তমানে মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। এই রাজ্যের উত্তর ও পশ্চিম উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা পুনর্দখলে সামরিক বাহিনী নিয়মিত বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।























