শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ক্রমেই আরও বেশি সহিংস ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ফ্রান্সে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার দেশটির সর্বোচ্চ ৫০০টি উচ্চবিদ্যালয় পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে বন্ধ রাখার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ফরাসি সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার শর্ত পূরণ না হওয়ায় এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে।
গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানী প্যারিসের একটি উপশহরের উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং দীর্ঘ স্কুল সময়সূচির মতো বিভিন্ন যৌক্তিক অভিযোগের ভিত্তিতে এই ছাত্র আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে তা দাবানলের মতো পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তাহান্তে বিক্ষোভের তীব্রতা কিছুটা স্থিমিত থাকলেও শিক্ষার্থীরা সোমবার থেকে পুনরায় রাজপথে নেমে কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের প্রায় ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার ন্যূনতম শর্ত বজায় না থাকায় সোমবার প্রায় ৪০০ থেকে চৌদ্দশ উচ্চবিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চলমান এই ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি দেখা গেছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭০ জন শিক্ষার্থী এবং ৭৮ জন শিক্ষা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত এক সপ্তাহে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী। আন্দোলন দমনের এই পুলিশি কৌশল ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ না করে তাদের দাবিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে শোনা উচিত।
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলে আন্দোলনের আয়োজকরা আগামী মঙ্গলবার আরও বিশাল পরিসরে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ডাক দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।























