ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত ও অভিযুক্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশটির রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এক অনুষ্ঠানে জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়। ওই বক্তব্যের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আসামিদের ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে আদালতের বিষয়ের পাশাপাশি এতে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও বড় ভূমিকা রাখে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস, সিলিকন ভ্যালি ও সান ফ্রান্সিসকোসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি হাব পরিদর্শনের তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল গুগল, অ্যাপল, মেটা, সিসকো, এনভিডিয়া ও প্লাগ অ্যান্ড প্লের মতো বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্টদের সদর দপ্তর পরিদর্শন ও বৈঠকে অংশ নেয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশে প্রযুক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ইউসি বার্কলে ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে বাংলাদেশে মেটার আনুষ্ঠানিক কার্যালয় খোলার বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্যালিফোর্নিয়া সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কখনই সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার কথা ছিল না। গুজব বা গুঞ্জনে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া সামনে প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফর নির্ধারিত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে অন্য কোনো দেশে সফর হবে কি না, তা যথাসময়ে জানানো হবে।


























