মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের বিপরীতে একই সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ এবং কূটনৈতিক আলোচনার জন্য তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি উল্লেখ করেন যে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপে ইরান যেমন বিন্দুমাত্র ভীত নয়, তেমনি অতিরিক্ত উচ্ছ্বসিতও নয়; বরং দেশের পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখেই তেহরান রণক্ষেত্র ও কূটনীতি—উভয় মাধ্যমকেই সমানভাবে কাজে লাগাতে বদ্ধপরিকর।
তবে দেশের এই দ্বিমুখী প্রস্তুতির মাঝেও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত তেহরানের সাতটি নির্দিষ্ট শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত এই জলপথ বন্ধই রাখা হবে। ইতিপূর্বে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি ৭ দিনের রোডম্যাপ পেশ করা হয়েছিল এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন কিছু প্রস্তাবও পাঠিয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুদ্ধ চিরতরে বন্ধের লক্ষ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বরাবর বেশ কিছু আনুষ্ঠানিক শর্ত পেশ করা হয়েছিল। ওইসব দাবির মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল সব ফ্রন্টে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোতে অবরুদ্ধ বা জব্দকৃত ইরানের অর্থ ও সম্পদ সম্পূর্ণ অবমুক্ত করা এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে প্রায় পুরোপুরি সরে এসেছে। ওহাইও যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে ইরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র অর্জনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান পরমাণু অস্ত্র চায় না এবং আন্তর্জাতিক কঠোর নজরদারির অধীনে তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানোর প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছে।
তবে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন প্রশাসন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার না করলে তাদের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। এমতাবস্থায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই জটিল কূটনৈতিক আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।























