বিশ্ব শিশু দিবস এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি তার ৫০ বছর পূর্তি বা সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিশু একাডেমি চত্বরে তাকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে শিশুরা। নাচে, গানে ও কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত তারা।
শিশু একাডেমির ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে সাজসাজ রব। তবে এর মাঝেই শিশুদের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের উদ্বেগ। শিশু একাডেমিকে বর্তমান অবস্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি পাঁয়তারা অতীতেও ছিল, যা এখনো চলমান। শিশুরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই শিশু একাডেমিকে এই জায়গা থেকে সরাতে দেবে না। সুযোগ পেলে তারা বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনবে। শিশুরা মনে করে, এই প্রাঙ্গণের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি জড়িত, যিনি শিশুদের সঙ্গে নিয়ে এই একাডেমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তাই এই জায়গাতেই একাডেমি টিকিয়ে রাখার দাবি তাদের।
জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব শিশু দিবস ২০ নভেম্বর হলেও বাংলাদেশে এটি অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার থেকে পালিত হয়ে আসছে। এ বছর ৬ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী শিশু দিবস ও ‘শিশু অধিকার সপ্তাহ’ পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত।’
জাতীয় শিশু নীতি অনুযায়ী ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই শিশু হিসেবে গণ্য হয়। সে হিসাবে দেশে বর্তমানে ৫ কোটি ৮৭ লাখ শিশু রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশ। তবে দেশের একটি বড় অংশের শিশুদের জীবন এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। তীব্র অপুষ্টির কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের প্রায় ২৪ শতাংশ খর্বাকৃতির শিকার। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে এবং শিশু শ্রমের হার এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দেশে লাখ লাখ পথশিশু রয়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের জেরে বহু শিশু জরুরি মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। এমন বাস্তবতায় শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্লোগানটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






















