Dhaka ১১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি ও মুম্বাই, আটক সাত শতাধিক

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ বার দেখা হয়েছে

ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী দিল্লি এবং বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই পুনারায় চরম উত্তাল হয়ে উঠেছে। দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তরে বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আন্দোলন ও বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভস্থল থেকে সাত শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সমগ্র এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে এবং যন্তর-মন্তরের আশপাশের সীমান্ত ও রাজপথে ইন্টারনেটের গতি অনেকাংশে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে আয়োজিত ‘জেলে ভরো’ কর্মসূচিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

সম্প্রতি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের রেষ কাটতে না কাটতেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির সার্বিক রাজনীতি পুনরায় মারাত্মক অস্থির রূপ ধারণ করেছে। সিইসি যদি দ্রুত পদত্যাগ না করেন, তবে ২ অক্টোবর থেকে মুম্বাই থেকে দিল্লি এবং কলকাতা থেকে গুজরাট পর্যন্ত পুরো দেশজুড়ে চরম ও কঠোর আন্দোলনের আল্টিমেটাম আগেই দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। একই সঙ্গে সিইসি বিরোধী এই জোরালো আন্দোলনে আম-আদমি পার্টি এবং ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলগুলোও সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনে নামে আম-আদমি পার্টি (আপ)-সহ একাধিক ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যরা। বিক্ষোভকারীরা মাঠে নামলে পুলিশি বাধার মুখে চরম বিপত্তি দেখা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ সুনির্দিষ্ট ব্যারিকেড বসিয়ে আন্দোলনকারীদের পিছু হটাতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। তবে আন্দোলনকারীরা সড়ক না ছেড়ে সেখানেই অবস্থান নিলে পুলিশ ব্যাপক ধড়পাকড় শুরু করে। ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশ টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে আম-আদমি পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ এবং বর্তমান বিধায়ক সঞ্জীব ঝা’সহ কয়েকশ নেতাকর্মীকে। গ্রেপ্তারের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “পুলিশ যতবারই আটক করুক না কেন, আমরা আবার রাজপথে জড়ো হবো। আমরা কাউকেই ভয় পাই না।” অন্য এক আন্দোলনকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুরো দেশ জানে, এসআইআর এর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। অসংখ্য মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছে। সিইসিকে পদত্যাগ করতেই করতে হবে। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে পরিণতি অনেক খারাপ হবে।”

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রশাসনের বাধা দেওয়ার বিষয়ে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে মারাত্মক কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে। তারা জানান, এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজনের জন্য আজ থেকে অন্তত ছয় দিন আগেই দিল্লি পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে। এছাড়া আন্দোলন দমনে প্রশাসন যন্তর-মন্তরের আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেটের গতি অস্বাভাবিক কমিয়ে দিয়েছে ও জ্যামার ব্যবহার করছে বলে দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, “যন্তর-মন্তরের আশেপাশের ৫-৬ কি.মি এলাকা তারা ঘেরাও করে রেখেছে। ইন্টারনেট জ্যামিং করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপও কাজ করছে না। আমরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারছি না।”

অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কোন ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি অনুমতি ছাড়াই যন্তর-মন্তরে বেআইনিভাবে জড়ো হয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুরো দিল্লিতে ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে, অর্থাৎ যেকোনো স্থানে ৫ জন বা তার বেশি মানুষের বেআইনি জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিরাপত্তার স্বার্থেই সাধারণ যাত্রীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে দিল্লির ১১টি স্টেশনের মেট্রো পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শচীন শর্মা জানান, “যন্তর-মন্তরে কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা মিছিলের অনুমতি দেয়া হয়নি। জনগণের নিরাপত্তায় ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। সবাইকে আইন মানতে ও পুলিশকে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছি।”

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি ও মুম্বাই, আটক সাত শতাধিক

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী দিল্লি এবং বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই পুনারায় চরম উত্তাল হয়ে উঠেছে। দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তরে বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আন্দোলন ও বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভস্থল থেকে সাত শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সমগ্র এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে এবং যন্তর-মন্তরের আশপাশের সীমান্ত ও রাজপথে ইন্টারনেটের গতি অনেকাংশে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে আয়োজিত ‘জেলে ভরো’ কর্মসূচিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

সম্প্রতি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের রেষ কাটতে না কাটতেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির সার্বিক রাজনীতি পুনরায় মারাত্মক অস্থির রূপ ধারণ করেছে। সিইসি যদি দ্রুত পদত্যাগ না করেন, তবে ২ অক্টোবর থেকে মুম্বাই থেকে দিল্লি এবং কলকাতা থেকে গুজরাট পর্যন্ত পুরো দেশজুড়ে চরম ও কঠোর আন্দোলনের আল্টিমেটাম আগেই দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। একই সঙ্গে সিইসি বিরোধী এই জোরালো আন্দোলনে আম-আদমি পার্টি এবং ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলগুলোও সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনে নামে আম-আদমি পার্টি (আপ)-সহ একাধিক ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যরা। বিক্ষোভকারীরা মাঠে নামলে পুলিশি বাধার মুখে চরম বিপত্তি দেখা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ সুনির্দিষ্ট ব্যারিকেড বসিয়ে আন্দোলনকারীদের পিছু হটাতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। তবে আন্দোলনকারীরা সড়ক না ছেড়ে সেখানেই অবস্থান নিলে পুলিশ ব্যাপক ধড়পাকড় শুরু করে। ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশ টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে আম-আদমি পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ এবং বর্তমান বিধায়ক সঞ্জীব ঝা’সহ কয়েকশ নেতাকর্মীকে। গ্রেপ্তারের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “পুলিশ যতবারই আটক করুক না কেন, আমরা আবার রাজপথে জড়ো হবো। আমরা কাউকেই ভয় পাই না।” অন্য এক আন্দোলনকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুরো দেশ জানে, এসআইআর এর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। অসংখ্য মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছে। সিইসিকে পদত্যাগ করতেই করতে হবে। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে পরিণতি অনেক খারাপ হবে।”

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রশাসনের বাধা দেওয়ার বিষয়ে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে মারাত্মক কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে। তারা জানান, এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজনের জন্য আজ থেকে অন্তত ছয় দিন আগেই দিল্লি পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে। এছাড়া আন্দোলন দমনে প্রশাসন যন্তর-মন্তরের আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেটের গতি অস্বাভাবিক কমিয়ে দিয়েছে ও জ্যামার ব্যবহার করছে বলে দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, “যন্তর-মন্তরের আশেপাশের ৫-৬ কি.মি এলাকা তারা ঘেরাও করে রেখেছে। ইন্টারনেট জ্যামিং করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপও কাজ করছে না। আমরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারছি না।”

অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কোন ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি অনুমতি ছাড়াই যন্তর-মন্তরে বেআইনিভাবে জড়ো হয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুরো দিল্লিতে ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে, অর্থাৎ যেকোনো স্থানে ৫ জন বা তার বেশি মানুষের বেআইনি জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিরাপত্তার স্বার্থেই সাধারণ যাত্রীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে দিল্লির ১১টি স্টেশনের মেট্রো পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শচীন শর্মা জানান, “যন্তর-মন্তরে কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা মিছিলের অনুমতি দেয়া হয়নি। জনগণের নিরাপত্তায় ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। সবাইকে আইন মানতে ও পুলিশকে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছি।”