জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনের জানাজার পূর্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় অপর এক মুক্তিযোদ্ধা নওশেদ আলী ও তার অনুসারীরা প্রয়াত দেলোয়ার হোসেনকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রশাসনের গাড়ি আটকে দেন এবং গার্ড অব অনার বন্ধের দাবি জানান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাধ্য হয়ে গার্ড অব অনার প্রদান না করেই ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই তার দাফন সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন ইন্তেকাল করেন। বৃহস্পতিবার বাদ আসর বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের মদনেরচর গ্রামে তার জানাজার নামাজ নির্ধারিত ছিল। নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদর্শনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পথিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা নওশেদ আলীর নেতৃত্বে একটি পক্ষ প্রশাসনের গাড়ি গতিরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং গার্ড অব অনার না দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন ও সরকারি নথি অনুযায়ী, মরহুম দেলোয়ার হোসেন একজন গেজেটভুক্ত বৈধ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং তিনি নিয়মিত সরকারি ভাতাসহ সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। প্রয়াতের ছেলে মমিনুর রহমান স্বপন অভিযোগ করেন, এর আগেও একটি পক্ষ তার বাবাকে ভুয়া প্রমাণ করার চেষ্টা করে হাইকোর্টে রিট করেছিল, যেখানে আদালতের রায়ে তার মুক্তিযোদ্ধার বৈধতা বহাল থাকে। পূর্বশত্রুতার জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা নওশেদ আলী দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাকে কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়নি এবং হাইকোর্টের রায়ের বিষয়টি স্থানীয় কমান্ডকে অবহিত করা হয়নি বিধায় তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।






















