যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩২ দিনের প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রচারণার শুরুতেই তিনি টেক্সাস ও ওকলাহোমায় পরপর দুটি সমাবেশ করেন। তবে নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ ও অর্থনীতি বিষয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান বিষয়ে তার ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একইসাথে ৬৯ শতাংশ মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করা ঠিক হয়নি। অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্পের প্রতি মাত্র ২৬ শতাংশ মানুষের অনুমোদন রয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে টেক্সাসের ডেন্টনে প্রথম সমাবেশে গিয়ে পিটারবিল্ট মোটরস কোম্পানিতে সমর্থকদের উদ্দেশে নিজের সরকারের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। সরকার ও অর্থনীতিসহ সবক্ষেত্রে নিজের প্রশাসনকে তিনি ‘এ প্লাস’ রেটিং দেন।
নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার জন্য গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারকে দায়ী করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় তার সরকার ভালো করলেও নিজেদের কাজের সঠিক প্রচার করতে পারছে না।
তবে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এপি-নরক জরিপে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে ৭১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ইরান বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়েছেন এবং ৬৫ শতাংশ বলেছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি থাকা পণ্যের দামের জন্য ট্রাম্পের নীতিই দায়ী। এই জরিপটি ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে প্রার্থী না হলেও, প্রতিনিধি পরিষদের সব কটি অর্থাৎ ৪৩৫টি এবং সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়েও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে ট্রাম্পের আইনগত কর্মসূচি বাধার মুখে পড়তে পারে।
এ কারণে নির্বাচনী প্রচারে নিজেকেই সামনে রাখছেন ট্রাম্প। সেপ্টেম্বরে রিপাবলিকানদের এক মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ভোট দেওয়ার সময় যেন তাকে ব্যালটে থাকা প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বৃহস্পতিবারের সমাবেশে তিনি তার শুল্কনীতিরও প্রশংসা করেন এবং দাবি করেন যে, এই নীতির কারণে হাজার হাজার উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে তার শুল্কনীতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং এ নিয়ে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ চলমান। ইরান যুদ্ধ নিয়েও সমর্থকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে।























