কিশোরগঞ্জের ভৈরবের চন্ডিবের এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আসবাবপত্রসহ অন্তত ১২টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
খবর পেয়ে ভৈরব ও আশুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের বিলম্বে আসা, প্রয়োজনীয় পাইপ ও পানির অভাব নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরাসহ স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, যা স্বস্তির বিষয়।
ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৭টার দিকে শহরের চন্ডিবের দক্ষিণ পাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত ভৈরব ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে বিষয়টি জানালেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করেন। এরপর স্থানীয়রা বালতি দিয়ে পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুন দ্রুতগতিতে একে একে ১০-১২টি বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে একে একে ভৈরব বাজার ও নদী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসলেও, তাদের কাছে পর্যাপ্ত পানি এবং লম্বা পাইপ না থাকায় তারা তাৎক্ষণিক কাজ শুরু করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে পাশের উপজেলা আশুগঞ্জ থেকে আরও একটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে ততক্ষণে প্রায় ১২টি বসতঘর সমস্ত আসবাবপত্রসহ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সময়মতো না আসা এবং আগুন নেভাতে তাদের ব্যর্থতার কারণেই তাদের অধিক ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আজিজুল হক রাজন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভৈরবের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। তবে পানির উৎস দূরে থাকায় তাদের কাজ করতে কিছুটা বিলম্ব হলেও, সঙ্গে সঙ্গে আশুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে কাজ শুরু করে। তিনি আরও জানান, প্রথমে একটি বাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত অন্যান্য এলাকায় সেটি ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।






















