কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষের ওয়াশরুম থেকে কুলসুমা আক্তার নামে এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই কক্ষে তার দুই বছরের শিশু অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে বাসটার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এক অজ্ঞাত যুবক ও কুলসুমা আক্তার দুই বছরের শিশুসহ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই কক্ষে ওঠেন। হোটেলের রেজিস্টারে তারা ঈদগাঁও উপজেলার ভাদিতলা ঠিকানা উল্লেখ করেছিলেন। পরদিন সকালে কক্ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। এরপর ওয়াশরুমে কুলসুমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তবে, কুলসুমার সঙ্গে হোটেলে থাকা অজ্ঞাত যুবকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই যুবক কুলসুমার স্বামী হারুন নন এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে চিনতেও পারছেন না। পুলিশ জানিয়েছে, কুলসুমার স্বামী হারুনের সঙ্গে একটি মামলা চলমান ছিল এবং সেই মামলায় হাজিরা দিতেই কুলসুমা কক্সবাজার এসেছিলেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কুলসুমার সঙ্গে হোটেলে থাকা যুবকটি তার স্বামী নন এবং তাকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। হোটেলের কর্মচারীরা যুবকের নাম আরফান বলে জানালেও, তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুবকটি কুলসুমার পূর্বপরিচিত ছিলেন কি না, কীভাবে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একই কক্ষে উঠেছিলেন—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ ও রেজিস্ট্রার পর্যালোচনা করে ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত এবং তাকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে। যুবককে শনাক্ত ও আটক করা গেলে কুলসুমার মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






















