Dhaka ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ঝিনাইদহে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি চরমে

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:২৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

ঝিনাইদহের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে মামলার জট দিন দিন বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫১৪টি। এর বিপরীতে গত এক মাসে মোট ৯৯২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যা মামলার বিশাল স্তূপের তুলনায় নগণ্য।

আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিচারাধীন ২০ হাজার ৫১৪টি মামলার মধ্যে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫৯৩টি, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক হাজার ৩৭১টি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে এক হাজার ৫১৪টি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে দুই হাজার ৯০টি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (মহেশপুর) এক হাজার ৪১৯টি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে এক হাজার ৭২৬টি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে এক হাজার ৫৮৯টি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে এক হাজার ৪৪৪টি এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালতে এক হাজার ৪৩২টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া জেলার ৬টি উপজেলা-ভিত্তিক আমলী আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সাত হাজার ৩৩৬টি। পাশাপাশি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেও আরো প্রায় দুই হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মামলা নিষ্পত্তির চিত্র হতাশাজনক। গত এক মাসে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে পূর্ণ বিচারে ২৯৮টি এবং আমলী আদালতগুলোতে পূর্ণ বিচারে ৬৯৪টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অর্থাৎ, এক মাসে সর্বমোট ৯৯২টি মামলা বিচারে শেষ হয়েছে, যা বিচারাধীন মামলার সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম।

একই সময়কালে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২৭৮ জন আসামি খালাস পেয়েছেন। অন্যদিকে, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ১৪০ জন আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিচারক স্বল্পতা এবং নিয়মিত মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মামলার এমন জট তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহ চীফ জুডিশিয়াল আদালতে বিচারপ্রার্থী নাজমুল আশরাফ রনি জানান, তিনি একটি মামলায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন, অথচ মামলাটির নিষ্পত্তি হচ্ছে না। যে গতিতে মামলা এগোচ্ছে, তাতে তার মামলা নিষ্পত্তি হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অন্য এক বিচারপ্রার্থী মাহমুদা বেগম জানান, প্রতিবার শুনানির তারিখ পড়লেও মামলার শুনানি হয় না। প্রতি তারিখে আদালতে আসতে হয়, যা মোটা অংকের খরচের কারণ। কিন্তু মামলার শেষ কবে হবে, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঝিনাইদহে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি চরমে

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:২৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ঝিনাইদহের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে মামলার জট দিন দিন বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫১৪টি। এর বিপরীতে গত এক মাসে মোট ৯৯২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যা মামলার বিশাল স্তূপের তুলনায় নগণ্য।

আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিচারাধীন ২০ হাজার ৫১৪টি মামলার মধ্যে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫৯৩টি, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক হাজার ৩৭১টি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে এক হাজার ৫১৪টি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে দুই হাজার ৯০টি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (মহেশপুর) এক হাজার ৪১৯টি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে এক হাজার ৭২৬টি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে এক হাজার ৫৮৯টি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে এক হাজার ৪৪৪টি এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালতে এক হাজার ৪৩২টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া জেলার ৬টি উপজেলা-ভিত্তিক আমলী আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সাত হাজার ৩৩৬টি। পাশাপাশি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেও আরো প্রায় দুই হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মামলা নিষ্পত্তির চিত্র হতাশাজনক। গত এক মাসে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে পূর্ণ বিচারে ২৯৮টি এবং আমলী আদালতগুলোতে পূর্ণ বিচারে ৬৯৪টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অর্থাৎ, এক মাসে সর্বমোট ৯৯২টি মামলা বিচারে শেষ হয়েছে, যা বিচারাধীন মামলার সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম।

একই সময়কালে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২৭৮ জন আসামি খালাস পেয়েছেন। অন্যদিকে, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ১৪০ জন আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিচারক স্বল্পতা এবং নিয়মিত মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মামলার এমন জট তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহ চীফ জুডিশিয়াল আদালতে বিচারপ্রার্থী নাজমুল আশরাফ রনি জানান, তিনি একটি মামলায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন, অথচ মামলাটির নিষ্পত্তি হচ্ছে না। যে গতিতে মামলা এগোচ্ছে, তাতে তার মামলা নিষ্পত্তি হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অন্য এক বিচারপ্রার্থী মাহমুদা বেগম জানান, প্রতিবার শুনানির তারিখ পড়লেও মামলার শুনানি হয় না। প্রতি তারিখে আদালতে আসতে হয়, যা মোটা অংকের খরচের কারণ। কিন্তু মামলার শেষ কবে হবে, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।