ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) চার সদস্য সহকর্মীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্টও রয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসোহলি এলাকার মাশকা গ্রামে সেওয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা শিবিরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে গুলির ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পান্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং এবং কনস্টেবল সঞ্জীব কুমার ও মোহাম্মদ রফিক। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাদের পাশের রাজ্য হিমাচল প্রদেশের একটি এনএইচপিসি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সিআইএসএফের এক হেড কনস্টেবল তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে তার সার্ভিস রাইফেল বা একে-৪৭ দিয়ে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান।
অভিযুক্ত হিসেবে হেড কনস্টেবল আওধেশ সিংয়ের নাম উঠে এসেছে। গুলি চালানোর পরপরই সহকর্মীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তার ব্যবহৃত অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, আওধেশ সিংয়ের সঙ্গে তার সহকর্মী ও কোম্পানি কমান্ডার অঙ্কিত কুমার পান্ডের বিতর্ক হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সন্তানকে বারবার প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত।
তবে কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি, ঠিক কী কারণে বিরোধ শুরু হয়েছিল এবং কীভাবে তা গুলির ঘটনায় রূপ নেয়। অন্য কোনো বিষয় এতে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে ‘ফ্র্যাট্রিসাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ একই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের হাতে সহকর্মী সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনা।
ঘটনার পর সিআইএসএফ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কাঠুয়া জেলা পুলিশের একটি দল ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুরো ঘটনাক্রম জানতে সিআইএসএফ সদর দপ্তর কোর্ট অব ইনকোয়ারি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি জেলা পুলিশও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সিআইএসএফের মহাপরিচালক পুরো পরিস্থিতি ও তদন্তের ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।























