Dhaka ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রাম নিশ্চিহ্ন করছে আরাকান আর্মি, জমি দখলের অভিযোগ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:৪৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ধ্বংস করে জমি দখলের ক্ষেত্রে আরাকান আর্মি (এএ) দেশটির সামরিক বাহিনীর কৌশল অনুসরণ করছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে উত্তর রাখাইনের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এএ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন, বাস্তুচ্যুতি ও ভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

রাখাইনের ধানক্ষেতের ওপর হ্নগেট থে এলাকায় অন্তত ১০টি শিবির গড়ে উঠেছে, যেখানে বর্তমানে বহু রোহিঙ্গাকে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। অন্যরা পাহাড়ি অঞ্চলে পালিয়েছে অথবা বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ বিপজ্জনক নৌযাত্রায় মালয়েশিয়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সাল থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

পশ্চিম মিয়ানমারের প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা কয়েক দশক ধরে নিপীড়ন ও সংঘাতের শিকার। ২০১৬-১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের পর প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ওই সময়ের হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের ঘটনা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে সম্ভাব্য গণহত্যা হিসেবে তদন্তাধীন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে।

২০২১ সালে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে রয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সরকারের বাহিনী এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষের সংঘাতের মধ্যে পড়ে গেছে। রোহিঙ্গারা নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, ভূমি দখল, বাস্তুচ্যুতি, জোরপূর্বক শ্রম এবং সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।

জাতিসংঘের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ২৩টি রোহিঙ্গা গ্রামের অন্তত ৮০০ হেক্টর জমি দখল করে শিবির, অন্য জনগোষ্ঠীর বসতি অথবা সামরিক অবকাঠামোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটিকে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশে বসবাসকারী ১৮ বছর বয়সী রোহিঙ্গা মুহাম্মদ আরেস জানান, বুলডোজার দিয়ে তাদের পুরো আবাসিক এলাকা সমতল করে দেওয়া হয়েছে। গাছপালা কেটে ফেলে বসতিগুলোর সব চিহ্ন মুছে ফেলা হয়। ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলার পর সেখানকার ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আরাকান আর্মি সামরিক শিবির ও চৌকি স্থাপন করেছে বলে তিনি জানান।

বুথিডং এলাকায় আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানে সশস্ত্র সংঘাতও কমে আসে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রাম নিশ্চিহ্ন করছে আরাকান আর্মি, জমি দখলের অভিযোগ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:৪৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ধ্বংস করে জমি দখলের ক্ষেত্রে আরাকান আর্মি (এএ) দেশটির সামরিক বাহিনীর কৌশল অনুসরণ করছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে উত্তর রাখাইনের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এএ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন, বাস্তুচ্যুতি ও ভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

রাখাইনের ধানক্ষেতের ওপর হ্নগেট থে এলাকায় অন্তত ১০টি শিবির গড়ে উঠেছে, যেখানে বর্তমানে বহু রোহিঙ্গাকে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। অন্যরা পাহাড়ি অঞ্চলে পালিয়েছে অথবা বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ বিপজ্জনক নৌযাত্রায় মালয়েশিয়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সাল থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

পশ্চিম মিয়ানমারের প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা কয়েক দশক ধরে নিপীড়ন ও সংঘাতের শিকার। ২০১৬-১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের পর প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ওই সময়ের হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের ঘটনা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে সম্ভাব্য গণহত্যা হিসেবে তদন্তাধীন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে।

২০২১ সালে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে রয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সরকারের বাহিনী এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষের সংঘাতের মধ্যে পড়ে গেছে। রোহিঙ্গারা নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, ভূমি দখল, বাস্তুচ্যুতি, জোরপূর্বক শ্রম এবং সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।

জাতিসংঘের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ২৩টি রোহিঙ্গা গ্রামের অন্তত ৮০০ হেক্টর জমি দখল করে শিবির, অন্য জনগোষ্ঠীর বসতি অথবা সামরিক অবকাঠামোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটিকে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশে বসবাসকারী ১৮ বছর বয়সী রোহিঙ্গা মুহাম্মদ আরেস জানান, বুলডোজার দিয়ে তাদের পুরো আবাসিক এলাকা সমতল করে দেওয়া হয়েছে। গাছপালা কেটে ফেলে বসতিগুলোর সব চিহ্ন মুছে ফেলা হয়। ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলার পর সেখানকার ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আরাকান আর্মি সামরিক শিবির ও চৌকি স্থাপন করেছে বলে তিনি জানান।

বুথিডং এলাকায় আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানে সশস্ত্র সংঘাতও কমে আসে।