মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও টাউনশিপে একটি ব্যস্ত বাজারে সংঘটিত ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং আরও ৫৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে এবং আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সহায়তাকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে। হামলার শিকার বাজারটিতে দুই শতাধিক দোকান ছিল এবং সেখানে রাখাইন, রোহিঙ্গা, হিন্দু, দাইনেটসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যবসা করতেন।
এই ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক। জাতিসংঘ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, রাখাইনে চলমান এই সহিংসতা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে মিয়ানমারে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে ফিরে যাওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
এদিকে, অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণকারী জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থু খা অভিযোগ করেছেন যে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে জনবহুল বাজার, স্কুল, আবাসিক এলাকা এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালিয়েছে এবং এর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে চলা দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা প্রায় লাখে পৌঁছেছে।
রাখাইনের এই হামলার পাশাপাশি একই সময়ে মালয়েশিয়া সরকার একটি প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার আওতায় দেশটিতে থাকা প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠানোর প্রথম ধাপ শুরু করেছে, যা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। জাতিসংঘ সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে বেসামরিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বাধাহীন প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।























