অর্থনীতির প্রকৃত পুনরুত্থান ও টেকসই বিকাশের জন্য চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব জোরদার করাকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত চীনা প্রতিনিধি দলের সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিনের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা সভায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা স্মরণ করে উপদেষ্টা জানান যে, পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এই সম্পর্ক আরও বেশি সুদৃঢ় ও গতিশীল হয়েছে। চীনের বিপুল উৎপাদন সক্ষমতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি দুই দেশের মধ্যকার বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে জানান যে, চীন থেকে প্রতি বছর যেখানে ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানি করা হয়, সেখানে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচেই রয়ে গেছে।
এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে চীনা সরকার বাংলাদেশি পণ্যে প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে বিনামূল্যে একটি প্রদর্শন কেন্দ্র ও সংরক্ষণ সুবিধা প্রদান করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি নতুন অর্থনৈতিক করিডোর উন্মোচিত হলে তা বাংলাদেশ ও চীন—উভয় দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে এক নতুন ও যুগান্তকারী মাত্রা যোগ করবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন। এছাড়া আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশে তাঁর সফল কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষ করে বিদায় নিতে যাওয়া চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অসামান্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন উপদেষ্টা। উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।






















