দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে নবনির্মিত আধুনিক টার্মিনাল ভবন থেকে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মোর্তোজা হোসেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রার কাছে চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও এয়ারলাইন্সগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন যে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নতুন ভবন চালur বিষয়টি যাত্রী ও এয়ারলাইন্সগুলোর দীর্ঘদিনের একটি বড় দাবি ছিল। তবে নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান চেক-ইন কাউন্টার ভাগাভাগি করার নির্দেশনা নিয়ে কিছু সংশয় প্রকাশ করলেও, বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মোর্তোজা হোসেন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে সেখানে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার রয়েছে এবং এয়ারলাইন্সগুলো চাইলে স্বাধীনভাবে আলাদা কাউন্টার ব্যবহার করতে পারবে, যার সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হলো সমুদ্রের বুক চিরে এর রানওয়েকে অতিরিক্ত এক হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণ করা, যার ফলে রানওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বেড়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে দাঁড়াচ্ছে এবং এটি এমনকি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের চাইতেও দীর্ঘ। প্রায় ১,৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় নতুন টার্মিনাল ভবন ছাড়াও বিভিন্ন আধুনিক এভিয়েশন অবকাঠামো যুক্ত করা হয়েছে। এই বর্ধিত ও আধুনিক রানওয়ে পুরোপুরি চালু হলে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ড্যাশ এইট কিউ৪০০ এবং প্রশস্ত কাঠামোর বড় আকারের উড়োজাহাজগুলো এখানে সহজেই নিরাপদে ওঠানামা করতে পারবে, এবং আগামী অক্টোবরের মধ্যেই নতুন এই রানওয়ে পুরোদমে চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে গত বুধবার নতুন ভবনে ফ্লাইট পরিচালনার সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন যে, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার পরপরই আগামী মাসেই এই বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।






















