সাধারণত শরীরে কোথাও আঘাত লাগলে বা পেশিতে টান পড়লে চিকিৎসকেরা রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পিঠ ও কোমর ব্যথার চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিলে পিঠের ব্যথা ও আড়ষ্টতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে, অথচ একটু হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রম করলে সেই ব্যথা অনেকটাই কমে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্রামের বদলে নড়াচড়া বা হাঁটাহাঁটিতে পিঠের ব্যথা কমে যাওয়া মূলত শরীরে বাসা বাঁধা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এটি ‘অটোইমিউন ডিজিজ’ বা প্রদাহজনিত বাতের (যেমন— ‘অ্যাক্সিয়াল স্পন্ডিলোআর্থ্রাইটিস’) কারণে হতে পারে, যা মেরুদণ্ড এবং কোমর বা তলপেটের মধ্যবর্তী অংশের সংযোগস্থলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই প্রদাহের কারণে হাড়ের সন্ধিস্থলগুলো শক্ত হয়ে যায়, ফলে মানুষ যখন হাঁটাহাঁটি বা হালকা নাড়াচাড়া করে তখন চারপাশের পেশিগুলো সক্রিয় হয়ে হাড়ের জোড়ের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপের বোঝা নিজেরা শুষে নেয়। এর ফলে ব্যথার তীব্রতা এবং আড়ষ্টতা দ্রুত কমে আসে। দীর্ঘস্থায়ী কোমর বা পিঠের ব্যথা দূর করতে পেট ও পিঠের নিচের অংশের অর্থাৎ ‘কোর’-এর পেশি শক্তিশালী করার নিয়মিত ব্যায়াম এবং হাঁটা বা সাইকেল চালানোর মতো মাঝারি অ্যারোবিক ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকরী। তবে ব্যথার তীব্রতা এবং মূল কারণ না জেনে যত্রতত্র জটিল ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকা উচিত, অন্যথায় বড় ধরনের আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


























