প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা ইথিপন স্প্রে করে কাঁচা পেঁপে কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে বিক্রি করছে। কেমিক্যালযুক্ত এসব ফল খেলে পেটের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, লিভার ও কিডনির ক্ষতিসহ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ পেঁপে চেনার কয়েকটি কৌশল জেনে রাখা প্রয়োজন।
প্রথমত, রঙের তারতম্য লক্ষ্য করুন। প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপেতে সবুজ, হলুদ ও কমলার মিশ্রণ থাকে এবং গায়ে ছোট ছোট দাগ থাকা স্বাভাবিক। অন্যদিকে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো পেঁপে দেখতে অতিরিক্ত চকচকে, মসৃণ এবং সমানভাবে গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের হয়ে থাকে।
দ্বিতীয়ত, সুবাস শুঁকে নিন। স্বাভাবিকভাবে পাকা পেঁপে থেকে মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ বের হয়। কিন্তু কৃত্রিমভাবে পাকানো ফলের ক্ষেত্রে ফলের কোনো স্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায় না, কিংবা হালকা রাসায়নিক গন্ধ অনুভূত হতে পারে।
তৃতীয়ত, নরম ও শক্ত ভাব পরীক্ষা করুন। প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপে সমানভাবে নরম ও রসালো হয় এবং চাপ দিলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। কৃত্রিম উপায়ে পাকানো পেঁপে বাইরে নরম মনে হলেও ভেতরে শক্ত থাকে বা চাপ দিলে আঙুলের দাগ বসে যায়।
চতুর্থত, বোঁটার অংশ পর্যবেক্ষণ করুন। স্বাভাবিক পাকা পেঁপের বোঁটার দিকটি কিছুটা নরম ও কুঁচকানো থাকে। যদি পেঁপে উজ্জ্বল রঙের হলেও বোঁটাটি অস্বাভাবিক শক্ত থাকে, তবে তা কেমিক্যাল দিয়ে পাকানোর স্পষ্ট লক্ষণ।
পঞ্চমত, ভেতরের বীজ খেয়াল করুন। পেঁপে কাটার পর বীজ যদি কালো এবং জেলির মতো আস্তরণে ঢাকা থাকে, তবে তা স্বাভাবিকভাবে পাকা। কিন্তু কৃত্রিম উপায়ে পাকানো পেঁপের বীজ সাধারণত সাদাটে বা অপরিণত অবস্থায় থাকে।


























