‘ডিজিটাল এজেন্ডা এবং ট্যুরিজম পুনর্গঠনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিপুল প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পর্যটন খাত এখনো কাঙ্ক্ষিত বিকাশ লাভ করতে পারেনি। দুর্বল অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সংকট, অপর্যাপ্ত বাজেট, আন্তর্জাতিক প্রচারের ঘাটতি এবং নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ খাতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘকাল ধরে পর্যাপ্ত সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে খাতটি অবহেলিত রয়ে গেছে। পর্যটনবান্ধব পরিবেশের অনুপস্থিতি বিদেশি পর্যটকদেরও এ দেশে ভ্রমণে উৎসাহিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাদের মতে, পর্যটনশিল্পের টেকসই বিকাশ প্রতিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মতো চার মৌলিক স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে সুন্দরবন, কক্সবাজার, সিলেটের চা-বাগান, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় ও সুনামগঞ্জের হাওরের মতো আকর্ষণীয় সব গন্তব্য। ইতোমধ্যে কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, সাজেক, বান্দরবান, কুয়াকাটা ও সেন্টমার্টিন প্রতিষ্ঠিত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পর্যটনেরও উল্লেখযোগ্য প্রসার ঘটেছে।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন কেন্দ্র চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জাতীয় পর্যটন নীতিমালা প্রণয়ন, ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত এবং কমিউনিটি ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানান, ১৯ হাজার কোটি টাকার এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জিডিপিতে পর্যটনের অবদান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।






















