জুলাই আন্দোলনে মাথায় গুলি লাগা শিশু মুসার (৬) সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে কাঁদতে দেখা গেছে তার বাবা মোস্তাফিজুর রহমানকে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। ১৯ জুলাই রামপুরায় বাসার গেটে মাথায় গুলি লাগে মুসার। মাথার একদিক দিয়ে ঢুকে আরেক দিক দিয়ে বের হয়ে সেই গুলি তার দাদি মায়া ইসলামের পেটে লাগলে তিনি মারা যান।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) বাবার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে আসে ৬ বছর বয়সী মুসা। রামপুরা হত্যা মামলায় বাবা সেখানে সাক্ষ্য দেন।
৬ বছরের ছোট্ট মুসার স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। কিন্তু ১৯ জুলাই আন্দোলন চলাকালে একটি বুলেট এসে তার মাথায় লাগে, যা একপাশ দিয়ে ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বের হয়ে যায় এবং সেই গুলি মুসার দাদির পেটে লেগে তার মৃত্যু হয়।
মুসার বাবা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমার একটিমাত্র ছেলে। ওকে ইংলিশ ভার্সনে পড়াচ্ছিলাম। ওর স্বপ্ন ছিল পাইলট হবে। কিন্তু এখন হয়তো আর সে স্বপ্ন পূরণ হবে না। ওর আর প্লেন ওড়ানো হলো না।” ঢাকার দুটি হাসপাতাল ঘুরে মুসার চিকিৎসা হয় সিঙ্গাপুরে। সেখান থেকে ফিরে তাকে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেই বাবার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে আসে মুসা।
সোমবার বাবা যখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন, মুসা তখন এজলাসের বেঞ্চে নিথর হয়ে শুয়ে ছিল। বিচারকরাও মুসার গুলিবিদ্ধ হওয়া ও শারীরিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। মুসার বাবা উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং গুলির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
মুসার বাবা আরও জানান, “আমার ছেলে নল দিয়ে খাবার খাচ্ছে। ও মুখ দিয়ে কিছু খেতে পারে না। ওর ডান পাশ এখন প্যারালাইজড। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে এটা ঠিক হওয়া সম্ভব। এবং ওর মাথার এক পাশের খুলি নেই। এটা আর্টিফিশিয়াল খুলি লাগানো হয়েছে।” তিনি বলেন, “ও হাঁটাচলা করতে পারে না। কথা বুঝতে পারলেও বলতে পারে না। স্বাভাবিক খাবার খেতে পারে না।”
আদালতে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজ আদালতে গিয়েছি, যারা আমার মাকে হত্যা করেছে এবং আমার শিশুর এ অবস্থা করেছে, তাদের বিচার চাইতে।”
এদিকে, শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন দাবি করেছেন যে শেখ হাসিনার খালাস পাওয়া নিয়ে বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার দাবি, বিচারের মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই এবং ক্যাঙারু কোর্টের অভিযোগও ভিত্তিহীন।
















