জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান, ফিন্যান্স, বোটানিসহ মোট ১৫টি বিষয়ের সংশোধিত সিলেবাস ভ্যালিডেশন নিয়ে একটি দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু হয়েছে। গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসের সিনেট হলে এই কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকগণ অংশগ্রহণ করছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পর্যায়ে একসঙ্গে ১৫টি বিষয়ের সিলেবাস ভ্যালিডেশন নিয়ে এমন উদ্যোগ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নেওয়া হলো।
‘ভ্যালিডেশন অব দ্য রিভাইজড ব্যাচেলর অব অনার্স সেকেন্ড ইয়ার সিলেবাস’ শীর্ষক এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করছেন ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
কর্মশালায় প্রতিদিন দুটি অধিবেশনে পাবলিক ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও শিক্ষকগণ অংশগ্রহণ করছেন। সংশোধিত সিলেবাসের বিষয়বস্তু, শিক্ষার্থীদের শিখনপ্রক্রিয়া, ব্যবহারিক ও কর্মমুখী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তাদের মূল্যবান মতামত দিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ও সিলেবাস আধুনিকায়ন এখন কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং এটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দেশের একটি বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে পড়াশোনা করে। তাই এই শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন ছাড়া দেশের উচ্চশিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আনা কঠিন। এর উন্নয়ন না হলে দেশের ৭০ শতাংশ শিক্ষার দুর্বল অবস্থা কাটবে না। এই কারণেই কারিকুলাম ও সিলেবাস উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ড. আমানুল্লাহ আরও বলেন, শুধু সিলেবাসের বিষয় পরিবর্তন করলেই হবে না, বরং শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, কীভাবে শিখছে এবং সেই শিক্ষা তাদের বাস্তব জীবনে কতটা কাজে লাগাতে পারছে—এসব বিষয়ও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।


























